Wednesday, June 12, 2024

স্ত্রীর দেওয়া কিডনিতে জীবন বাঁচল স্বামীর

অর্থভুবন ডেস্ক

বছর দেড়েক আগে মাথা ঘুরানো ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন নেত্রকোনার জহিরুল হক জুনাইদ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার একপর্যায়ে ধরা পড়ে তার দুটি কিডনিই বিকল। এখানে-সেখানে খোঁজ করেও যখন কিডনি মিলছিল না, তখন তার স্ত্রী সায়মা জাহান পলি নিজের একটি কিডনি দিতে এগিয়ে আসেন। তার দেওয়া কিডনিতে এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন জহিরুল। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জহিরুল বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জহিরুলের বাড়ি পূর্বধলা উপজেলার হিরণপুর বাজারে। তিনি ওই এলাকার মো. মোজাম্মেলন হক ও জয়নব আক্তার দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা জহিরুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সায়মা জাহান নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন। জহিরুল ও সায়মা দম্পতির জুনাইনা জান্নাত রাইসা নামে পাঁচ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জহিরুল পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। গত বছরের ২৭ মে গ্রামের বাড়িতে এসে অসুস্থ হন তিনি। তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কিডনি রোগ ধরা পড়ে। এরপর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে তিনি ডায়ালাইসিস করতে থাকেন। কিন্তু তার শারীরিক পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছিল। মাসখানেক আগে পরীক্ষা নিরীক্ষায় দেখা যায়, তার দুটি কিডনিই অচল হয়ে গেছে। এরপর বিভিন্ন কিডনি ব্যাংকে যোগাযোগ করেও কিডনি মিলছিল না। এ অবস্থায় স্বামীকে বাঁচাতে সায়মা নিজের একটি কিডনি দেন। ৫ সেপ্টেম্বর বিএসএমএমইউ’র সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই কিডনি প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের সপ্তম তলায় নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিসিইউ) চিকিৎসাধীন জহিরুল।

জহিরুলের ছোট ভাই পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশিকুল হক জানান, তার ভাবি এখন কিছুটা সুস্থ। চিকিৎসকের পরামর্শে শনিবার হাসপাতাল থেকে তিনি বাসায় ফিরেছেন। আর ভাইয়ের অবস্থাও ভালোর দিকে। ভাবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা ভাই হয়ে যা পারিনি, ভাবি তা পেরেছেন। তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই।

এ বিষয়ে সায়মা জাহান বলেন, স্বামীকে নিজের কিডনি দিতে পেরে আমি গর্বিত। তিনি (স্বামী) সুস্থ হচ্ছেন দেখে খুবই ভালো লাগছে। এখন বাঁচলে দুজন বাঁচব আর মরলে দুজন মরব।

নারানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস বেপারি বলেন, গৃহবধূ সায়মা নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দিয়ে এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন। এটি সত্যিই একটি বিরল উদাহরণ। আশা করি তারা উভয়েই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here