Saturday, June 22, 2024

বিচারকের স্বাক্ষর নকল করে আসামিকে অব্যাহতি, গ্রেপ্তার ৫

বগুড়ায় বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে একটি মাদক মামলার কার্যক্রম স্থগিত এবং আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ তৈরির অভিযোগে আদালতের তিন কর্মচারীসহ পাঁচজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায়  সোমবার বিকেলে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাকছুদুর রহমান বাদী হয়ে গ্রেপ্তার ওই পাঁচজনসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তনয় কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশে সোপর্দ করা ব্যক্তিরা হলেন বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুজ্জামান, একই আদালতের জারীকারক এম এ মাসুদ, ওমেদার হারুন অর রশিদ সাজন, বগুড়া জেলা জজ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নান ও বগুড়া শহরতলির গোদারপাড়ার মোক্তার হোসেন।

থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা জিআর ৭৯০/২০২০ (সদর) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল। ওই মামলায় মোট পাঁচজন আসামির মধ্যে প্রধান আসামি আয়েশা আক্তার শিমু জামিন নিয়ে পলাতক ছিলেন। অপর চার আসামি আদালতে হাজির হয়ে সময় প্রার্থনা করেন।

মামলার সাক্ষীরা ওই দিন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক সময় আবেদন মঞ্জুর করেন।

 
এর পর থেকে ওই মামলার নথি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ইতিমধ্যে বেঞ্চ সহকারী কামরুজ্জামান অন্য আদালতে বদলি হন। গত ১৪ অক্টোবর বর্তমান বেঞ্চ সহকারী ফজলুর রশিদ মামলার নথিটি খুঁজে পেয়ে দেখতে পান মামলা শুনানির পর বিচারকের অজ্ঞাতে গত ১৪ মে মাদক মামলার আসামি আবু সাহেদের পক্ষে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন নথিতে সংযুক্ত করে তা মঞ্জুর করে ওই মামলা থেকে সকল আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ লেখা রয়েছে।

 

নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জালিয়াতি করে উক্ত আদেশটি তৈরি করা হয়েছে।

 
এ ছাড়াও বিচারক মির্জা শায়লার স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে। আদেশটি আদালতের জারীকারক এম এ মাসুদের হাতে লেখা। পরে বেঞ্চ সহকারী কামরুজ্জামান ও জারীকারক এম এ মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, বগুড়া জেলা জজ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নান জিআর ৭৯০/২০২০ মাদক মামলার আসামি আবু সাহেদের বাবা। তার (মান্নান) অনুরোধে এবং আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে আদালতের ওমেদার হারুন অর রশিদ সাজনের সহযোগিতায় আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ তৈরি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তনয় বলেন, মামলাটি দায়েরের পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

 

spot_imgspot_img

ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল ভিএফএস

ভিএফএস গ্লোবালের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভিএফএস গ্লোবাল। এবার তারা ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। ভিএফএস তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে...

জেলখানার চিঠি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস  কয়েদি নং: ৯৬৮ /এ  খুলনা জেলা কারাগার  ডেথ রেফারেন্স নং: ১০০/২১ একজন ব্যক্তি যখন অথই সাগরে পড়ে যায়, কোনো কূলকিনারা পায় না, তখন যদি...

কর্মসৃজনের ৫১টি প্রকল্পে নয়ছয় মাগুরায়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে হাজিরা খাতা না...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here