Wednesday, June 19, 2024

ঢাবির ২৯তম উপাচার্য মাকসুদ কামাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২৯তম উপাচার্য হিসেবে সাময়িকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন বর্তমান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে শর্তসাপেক্ষে এ নিয়োগ দিয়েছেন। গতকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মাকসুদ কামাল ভূমিকম্প ও সুনামি এবং নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ। দেশি-বিদেশি জার্নালে তার ৬৫টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলা এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণে তিনি শিক্ষাবিদ ও গবেষক হিসেবে দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের বহু প্রকল্পে কারিগরি উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা সামলাবেন।

এতদিন ঢাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মাকসুদ কামাল আগামী ৪ নভেম্বর নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব বুঝে নেবেন। তিনি অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। আগামী ৩ নভেম্বর বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। দুই মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন শেষে আবার অধ্যাপনার কাজে ফিরছেন ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এ শিক্ষক। নতুন উপাচার্য বেছে নিতে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে রাষ্ট্রপতি সরাসরি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক মাকসুদ কামালকে উপাচার্যের দায়িত্ব দিলেন। তিনি পূর্ণ মেয়াদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অধ্যাপক মাকসুদ কামালকে উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন পর গবেষক, দক্ষ অ্যাকাডেমিশিয়ান ও বিচক্ষণ প্রশাসক পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

তাকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর ১১ (২) ধারা অনুযায়ী দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামালকে সাময়িকভাবে নিম্নোক্ত শর্তে উপাচার্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন। শর্তগুলো হচ্ছেÑ চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। এ পদে তিনি তার বর্তমান পদের (উপ-উপাচার্য) সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন। তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট সুবিধা ভোগ করবেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। এ আদেশ আগামী ৪ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল ২০০০ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন এবং একই বিভাগে ২০১০ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানে (স্পারসো) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে প্রায় ছয় বছর কর্মরত ছিলেন। ড. মাকসুদ কামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব পর্যায়ে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন, যা বর্তমানে ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ নামে পরিচিত। উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার আগে ২০১২ সাল থেকে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিনের (চারবার নির্বাচিত) দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালের জুন মাস থেকে উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তিনি ঢাবি শিক্ষক সমিতির চারবারের নির্বাচিত সভাপতি এবং তিন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বেও ছিলেন এ অধ্যাপক। শিক্ষক সমিতি ও ফেডারেশনের দায়িত্বকালীন শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য বিভিন্ন কার্যকরী ভূমিকা রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে অবদান রেখে আসছেন।

মাকসুদ কামাল ভূতত্ত্বে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। পরে নেদারল্যান্ডসের টোয়েন্টি ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর জিও-ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড আর্থ অভজারভেশন থেকে অ্যাপ্লায়েড ইঞ্জিনিয়ারিং জিওলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। জাপানের টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনলোজি থেকে ২০০৪ সালে ভূমিকম্পবিষয়ক প্রকৌশলে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. মাকসুদ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ভূমিকম্প ও সুনামি এবং নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইউএনডিপি/সিডিএমপি, বাংলাদেশ প্রকল্পে চার বছর কাজ করেছেন। এর আগে ২০০৭ সালে ভূমিকম্প দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইউএনডিপি/এডিপিসি, ইরানে কাজ করেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

১৯৬৬ সালের ২১ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম মাকসুদ কামালের। বাবা মরহুম ফরিদ আহমেদ এবং মা মরহুমা মাছুমা খাতুন ছিলেন সমাজহিতৈষী ও বিদ্যানুরাগী। তার বাবা সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। ড. মাকসুদ কামালের অগ্রজ সদ্যপ্রয়াত এ কে এম শাহজাহান কামাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাকসুদ কামালের স্ত্রী শিক্ষাবিদ সৈয়দা আফসানা ফেরদৌসী ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের (ইউআইটিএস) লিবারেল আর্টস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন। এ দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here