Friday, June 21, 2024

নবী-রাসুলদের পেশা

নবী-রাসুলরা হলেন পৃথিবীর সেরা মানব, ফলে তারা সেরা উপার্জন তথা স্বহস্তে অর্জিত সম্পদে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দুনিয়ায় আগত নবী-রাসুলদের কোনো না কোনো পেশা ছিল, তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতেন না। বরং স্বীয় হস্তে অর্জিত রিজিক ভক্ষণ করাকে পছন্দ করতেন। নবী করিম (সা.) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন ধরনের উপার্জন উত্তম? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেছেন, ‘ব্যক্তির স্বহস্তে অর্জিত অর্থ এবং সৎ ব্যবসায়।’ সুয়ুতি আদ দুররুল মানসুর

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘হালাল রুজি অর্জন করা ফরজের পর আরেকটি ফরজ।’ সহিহ্ বোখারি ও মুসলিম

হজরত ঈসা (আ.) এক ব্যক্তিকে অসময়ে ইবাদতখানায় দেখে প্রশ্ন করলেন, তুমি এখানে বসে ইবাদত করছ, তোমার রিজিকের ব্যবস্থা কে করে? লোকটি বলল, আমার ভাই আমার রিজিকের ব্যবস্থা করে। হজরত ঈসা (আ.) তাকে বললেন, সে তোমার চেয়ে অনেক উত্তম। হেদায়াতুল মুরশিদিন

হজরত আদম (আ.) ছিলেন একজন কৃষক। চাষাবাদ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার ছেলেদের পেশাও ছিল চাষাবাদ। তা ছাড়া তিনি তাঁতের কাজও করতেন। কারও কারও মতে, তার ছেলে হাবিল পশুপালন করতেন। আল্লাহ তাকে কৃষিকাজের যন্ত্রপাতির নাম শিক্ষা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ আদমকে সমস্ত নামের জ্ঞান দান করেছেন।’ সুরা বাকারা : ৩১

হজরত শিস (আ.) পিতা হজরত আদম (আ.)-এর মতো কৃষক ছিলেন। তার পৌত্র মাহলাইল সর্বপ্রথম গাছ কেটে জ্বালানীর কাজে ব্যবহার করেন। তিনি শহর নগর ও বড় বড় কিল্লা তৈরি করেছেন। তিনি বাবেল শহর প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইবনে কাসির

হজরত ইদ্রিস (আ.)-এর পেশা ছিল কাপড় সেলাই করা। কাপড় সেলাই করে যে অর্থ উপার্জন করতেন তা দিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। হজরত নূহ (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আল্লাহতায়ালা তাকে নৌকা তৈরির কলাকৌশল শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর নির্দেশে তিনি নৌকা তৈরি করেছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার অহি অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করো’ সুরা হুদ : ৩৭

আল্লাহর হুকুমে তিনি ৩০০ হাত দীর্ঘ, ৫০ হাত প্রস্থ, ৩০ হাত উচ্চতাসম্পন্ন একটি বিশাল নৌকা তৈরি করেন।

হজরত হুদ (আ.)-এর পেশা ছিল ব্যবসায় ও পশুপালন। ব্যবসায় ও পশুপালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। হজরত সালেহ (আ.)-এরও পেশা ছিল ব্যবসায় ও পশুপালন।

হজরত লুত (আ.) ও তার সম্প্রদায়ের লোকেরা চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনিও জীবিকা নির্বাহ করতেন চাষাবাদের মাধ্যমে। হজরত ইবরাহিম (আ.) জীবিকা নির্বাহের জন্য কখনো ব্যবসায় আবার কখনো পশুপালন করতেন। হজরত ইসমাইল (আ.) পশু শিকার করতেন। পিতা-পুত্র উভয়ই ছিলেন রাজমিস্ত্রি। উভয়ে মিলে আল্লাহর ঘর তৈরি করেছিলেন।

হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর পেশা ছিল ব্যবসায়, কৃষিকাজ ও পশুপালন। হজরত ইউসুফ (আ.) রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। সুতরাং বেতন হিসেবে বায়তুল মাল অর্থ গ্রহণ করতেন। হজরত শোয়াইব (আ.)-এর পেশা ছিল পশুপালন ও দুধ বিক্রি। পশুপালন ও দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার কন্যারা চারণভূমিতে পশু চরাতেন।

হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন। আল্লাহতায়ালা তাকে লোহা দ্বারা বর্ম ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার কৌশল শিক্ষা দেন। শক্ত ও কঠিন লোহা স্পর্শ করলে তা নরম হয়ে যেত। যুদ্ধাস্ত্র, লৌহ বর্ম ও দেহবস্ত্র প্রস্তুত করা ছিল তার পেশা। এগুলো বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

হজরত সোলায়মান (আ.) তার পিতা থেকে অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। তিনি নিজেও অঢেল সম্পদের মালিক ছিলেন। ভিন্ন পেশার গ্রহণের চেয়ে নিজ সম্পদ রক্ষা ও তদারকি করাই ছিল তার প্রদান দায়িত্ব। হজরত মুসা (আ.) ছিলেন একজন রাখাল। তিনি মাদায়েনে শ্বশুরের পশু চরাতেন। সিনাই পর্বতের পাদদেশে বিরাট চারণভূমি মাদায়েনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আট বছর তিনি স্বীয় শ্বশুর হজরত শোয়াইব (আ.)-এর পশু চরিয়েছেন। হজরত হারুন (আ.)-এর পেশাও ছিল পশুপালন। পশুপালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

হজরত ইলিয়াছ (আ.)-এর পেশাও ছিল ব্যবসায় ও পশুপালন। হজরত আইউব (আ.)-এর পেশা ছিল গবাদিপশু পালন। তিনি জীবনে বহু পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। তার প্রথম পরীক্ষাটি ছিল গবাদিপশুর ওপর। ডাকাতেরা তার পশুগুলো লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। আনওয়ারে আম্বিয়া

হজরত ইউনুস (আ.) ও তার গোত্রের লোকদের পেশা ছিল চাষাবাদ। হজরত জাকারিয়া (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, হজরত জাকারিয়া (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাই তার শত্রুরা তার করাত দিয়েই তাকে দ্বি-খণ্ডিত করে। কিতাবুল আম্বিয়া, সহিহ্ বোখারি

হজরত ইয়াহইয়া (আ.) জীবনের একটি সময় জঙ্গলে ও জনহীন স্থানে কাটিয়েছিলেন। আহার হিসেবে তিনি বৃক্ষের লতা-পাতা ভক্ষণ করতেন। -আনওয়ারে আম্বিয়া

হজরত জুলকিফল (আ.)-এর পেশা ছিল পশুপালন। হজরত ইয়াসা (আ.)-এর পেশা ছিল ব্যবসায় ও পশুপালন। অন্যদিকে আরেক নবী হজরত ঈসা (আ.)-এর আবাসস্থল প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমি তাদের উভয়কে (ঈসা ও মরিয়মকে) এক উচ্চভূমি প্রদান করেছিলাম যা সুজলা ও বাসযোগ্য ছিল।’ সুরা আল মুমিনুন : ৫০

এই উচ্চভূমি হলো ফিলিস্তিন। তিনি ফিলিস্তিনে উৎপন্ন ফলমূল খেয়ে বড় হয়েছেন। তিনি ঘুরে ঘুরে অলিতে-গলিতে দাওয়াতি কাজ করতেন। যেখানে রাত হতো সেখানে খেয়ে না খেয়ে নিদ্রা যেতেন। তার নির্দিষ্ট কোনো পেশা ছিল না।

শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন একজন সফল ও সৎ ব্যবসায়ী। তিনি ইরশাদ করেছেন, সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ীদের হাশর হবে নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে। আদ দুরুরুল মানসুর : ৬/২২০

তিনি গৃহস্থালির কাজ নিজ হাতে করতেন। বকরির দুধ দোহন করতেন। নিজের জুতা ও কাপড় সেলাই ও ধোলাই করতেন, ঘর ঝাড় দিতেন। মসজিদে নববি নির্মাণকালে শ্রমিকের মতো কাজ করেছেন। খন্দকের যুদ্ধে মাটি কেটেছেন। বাজার থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতেন। তিনি ইরশাদ করেন, বর্শার ছায়ার নিচে আমার রিজিক নির্ধারণ করা হয়েছে তথা গণিমতের মাল হলো আমার রিজিক। কুরতুবি : ১৩/১২

অন্য হাদিসে তিনি আরও ইরশাদ করেন, জমিনের অভ্যন্তরে তথা চাষাবাদ, খনন ও রোপণের মাধ্যমে রিজিক অনুসন্ধান করো। হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো নবী নেই যিনি ছাগল চরাননি। জনৈক সাহাবি প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসুল আপনিও কি ছাগল চরিয়েছেন? প্রত্যুত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হ্যাঁ, আমিও মক্কায় অর্থের বিনিময়ে ছাগল চরিয়েছি। বলাবাহুল্য, নবী করিম (সা.)-এর সাহাবিরা অনেকেই ব্যবসায় করতেন। বিশেষ করে মুহাজিররা ছিলেন ব্যবসায়ী আর আনসাররা ছিলেন কৃষক।

spot_imgspot_img

ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল ভিএফএস

ভিএফএস গ্লোবালের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভিএফএস গ্লোবাল। এবার তারা ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। ভিএফএস তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে...

জেলখানার চিঠি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস  কয়েদি নং: ৯৬৮ /এ  খুলনা জেলা কারাগার  ডেথ রেফারেন্স নং: ১০০/২১ একজন ব্যক্তি যখন অথই সাগরে পড়ে যায়, কোনো কূলকিনারা পায় না, তখন যদি...

কর্মসৃজনের ৫১টি প্রকল্পে নয়ছয় মাগুরায়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে হাজিরা খাতা না...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here