Saturday, June 22, 2024

আশরাফুলের বাংলা এআই

পড়াশোনা সাংবাদিকতায়। আগ্রহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়। এ দুই মিলিয়ে কাজ করছেন সংবাদপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে। তৈরি করছেন ‘বাংলা এআই’। টুলটি সাংবাদিকদের সংবাদ খোঁজা থেকে শুরু করে অনুবাদ—সব ক্ষেত্রেই সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আমিন-আল রাজীব

হবিগঞ্জ থেকে যুক্তরাষ্ট্র

মো. আশরাফুল গনির বেড়ে ওঠা হবিগঞ্জে। সেখানে পেরিয়েছেন মাধ্যমিকের গণ্ডি। উচ্চ মাধ্যমিক করেছেন ঢাকার সিটি কলেজে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে করেছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।

স্নাতকোত্তর করেছেন প্রথম বিভাগে। আর এখন কাজ করছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। বর্তমানে পিএইচডি করছেন কলেজ অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন, টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে।

 

সংবাদমাধ্যমে এআইয়ের যাত্রা

২০১৯ সালে আশরাফুল জার্মানির বন শহরে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশগ্রহণ করতে যান।সেখানেই প্রথম দেখতে পান এআইয়ের মাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপন। তখন বলা হচ্ছিল, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সাংবাদিকদের জন্য সংবাদ লিখবে এবং তৈরি করে দেবে। এটি শুনে আশরাফুল ভাবলেন, এ-ও কি সম্ভব? তখন তিনি বিষয়টি নিয়ে ফিনল্যান্ডের এক অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বলেন। অধ্যাপক তাঁকে বললেন, ‘তুমি দেশে ফিরে এটি নিয়ে কাজ শুরু করো, আমি তোমাকে সাহায্য করব।

 

দেশে এসে সাংবাদিকতায় কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে একটি গবেষণা শুরু করেন আশরাফুল। তখনই ঠিক করলেন, ভবিষ্যতে গবেষণা করলে এ বিষয়েই করবেন। বর্তমানে বাংলা এআই টিমে তিনজন কাজ করছেন। উদ্যোক্তা মো. আশরাফুল গনি, মোশন লার্নিং এক্সপার্ট আশরাফুল হক অভি এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্টে কাজ করছেন নাবিল। যেহেতু আশরাফুল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে আছেন, তাই তাঁর অনেক শিক্ষার্থীও এই প্রজেক্টে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত আছেন।

 
আশরাফুল যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন ও জার্নালিজমের কোর্সের শিক্ষক অধ্যাপক কেন্ট উইলকিনসনকে লন্ডনে বাংলা ভাষার এথনিক মিডিয়ার ওপর গবেষণা করার প্রস্তাব দিলে তিনিও সায় দেন। তবে আশরাফুল এখন নিউ ইয়র্কভিত্তিক বাংলা ভাষার এথনিক মিডিয়ায় এআই ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার পিএইচডি গবেষণার মূল বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর আগ্রহের জায়গা বাঙালি এথনিক মিডিয়া, সেখান থেকেই বাংলা এআই স্টার্টআপটি শুরু করতে কাজ করি। আমি যেহেতু ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডের না, টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আমার টিমমেটরা কাজ করছেন।’

এথনিক মিডিয়া কী?

এথনিক মিডিয়া হলো দেশের বাইরে বা ভিন্ন দেশে প্রবাসীদের তৈরি করা মিডিয়া, যারা প্রবাসীদের জন্য কাজ করে থাকে। আর বাংলা এআই কাজ করছে কিভাবে এথনিক মিডিয়ার কাজগুলো আরো সহজে করা যায়। সে ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ কিংবা অল্প খরচে ভালো সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে।

বাংলা এআই কী?

বাংলা এআই হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা একটি প্রজেক্ট, যা এথনিক মিডিয়ার ভাষান্তরের কাজে সাহায্য করবে। অন্যদিকে সংবাদ খোঁজায়ও তাদের কাজে আসবে। সহজে বললে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা এথনিক মিডিয়ার জন্য তৈরি করা একটি টুল হলো বাংলা এআই। কেন আশরাফুলের এই গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার গবেষণার জন্য অনুদান দিয়েছে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের শর্ত ছিল, আমার প্রজেক্টটি অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হতে হবে। সেখানকার স্থানীয় মিডিয়াকে সাপোর্ট করতে হবে।’

একসঙ্গে তিন সেবা

বাংলা এআই টুলটি ব্যবহারে সংবাদ খুঁজে পাওয়া যাবে, এটি সংবাদের সারসংক্ষেপ করবে, এমনকি ভাষার রূপান্তরও করা যাবে। অনেকে বলতে পারেন, ভাষা রূপান্তর

বা ট্রান্সলেশনের জন্য তো গুগল ট্রান্সলেটর আছেই। কিন্তু গুগল ট্রান্সলেটরের অ্যালগরিদম দিয়ে ভালোভাবে সংবাদ ভাষান্তর করা যায় না, যা বাংলা এআই দিয়ে সহজেই করা যাবে। অনেকেই চ্যাটজিপিটির কথা ভাবতে পারেন। এটি ব্যবহার করেও তো কোনো কিছু সম্পর্কে লেখা তৈরি করা যায়। আশরাফুলরা ওপেন এআইয়ের ট্রান্সলেশন অ্যালগরিদমকে সংবাদ ভাষান্তরের জন্য প্রস্তুত করে তুলবেন। সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে কপিরাইট খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভাষান্তর করে সংবাদ পরিবেশনে জটিলতা আছে। বাংলা এআই যুক্তরাষ্ট্রে মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে চুক্তিতে যাবে। ফলে বাংলা এআই ব্যবহারকারী সংবাদমাধ্যম আইনত কোনো ঝামেলায় পড়বে না। এ বিষয়ে আশরাফুল বললেন, ‘আমাদের প্রটোটাইপের কাজ চলছে। আশা করছি আগামী ছয় মাসের মধ্যে গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

জিতেছেন পদকও

আশরাফুল বাংলা এআই প্রজেক্টের জন্য নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স লোকাল নিউজ চ্যালেঞ্জ জিতেছেন। নাইট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এই চ্যালেঞ্জের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে পাওয়া ফান্ড দিয়ে প্রথম তিন মাস কাজ করেছেন। এখন নতুন ফান্ড খুঁজছেন। পাশাপাশি ওপেন এআইয়ের সঙ্গে মিলে কাজ করা যায় কি না, সেটি নিয়েও ভাবছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে আশরাফুল বলেন, ‘এথনিক মিডিয়ার পাশাপাশি মূলধারার গণমাধ্যমে এআইয়ের ব্যবহার চালু করতে চাই। আশা করি বাংলা এআই মূলধারার গণমাধ্যমের জন্যও একটি বিশ্বস্ত টুল হবে। আর আমাদের এই প্রজেক্ট বা স্টার্টআপটি টিকিয়ে রাখতে চাই।’

 
spot_imgspot_img

ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল ভিএফএস

ভিএফএস গ্লোবালের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভিএফএস গ্লোবাল। এবার তারা ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। ভিএফএস তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে...

জেলখানার চিঠি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস  কয়েদি নং: ৯৬৮ /এ  খুলনা জেলা কারাগার  ডেথ রেফারেন্স নং: ১০০/২১ একজন ব্যক্তি যখন অথই সাগরে পড়ে যায়, কোনো কূলকিনারা পায় না, তখন যদি...

কর্মসৃজনের ৫১টি প্রকল্পে নয়ছয় মাগুরায়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে হাজিরা খাতা না...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here