Friday, June 21, 2024

সচেতন থাকুন অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কে

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের হাড় ক্ষয় শুরু হয়। এই প্রবণতা পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে বেশি। বিশ্বে পঞ্চাশোর্ধ মানুষের প্রতি তিনজনে একজন নারী এবং প্রতি পাঁচজনে একজন পুরুষ হাড় ক্ষয় রোগে ভোগেন। জীবন যাপনের পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির কারণে অস্টিওপোরেসিস বাড়লেও এই রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতার অভাব রয়েছে। জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তাই সারা বিশ্বে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর ‘বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস’ দিবস পালিত হয়।

কারণ

মহিলাদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন হরমোন ও ছেলেদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন এর পরিমাণ কমে গেলে হার ক্ষয় হয়। এছাড়া বংশানুক্রমিক হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা, কম ওজন, ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস, হরমোন জনিত কিছু রোগ (যেমন থাইরয়েড ও প্যারা থাইরয়েড গ্রন্থির জটিলতা, কুশিং সিনড্রোম ইত্যাদি), দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর ঘাটতি, কায়িক শ্রমের অভাব, কিছু রোগ যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অন্ত্রের রোগ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতা প্রভৃতি সমস্যা থাকলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

লক্ষণ:

উপসর্গ বিহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে। ভঙ্গুরতার ফলে সামান্য আঘাত এমনকি হাঁচি কাশিতে বা জোরে কোন কাজ করতে গেলে হাড় ভেঙে যায়। এ রোগে সাধারণত কোমরের হাড়, মেরুদন্ড ও হাতের কব্জির হাড় ভাঙ্গার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় মেরুদন্ড বা পিঠের আকৃতি আকৃতি সামনের দিকে ঝুকে যায়, উচ্চতা কমে যায়।

জটিলতা:

বয়স্ক ব্যক্তিদের অচল, শয্যাশায়ী বা কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হাড় ভেঙে যাওয়া। কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার কারন অনেকেই বহুদিন বিছানায় শুয়ে থাকেন ও নড়াচড়া করতে পারেন না। ফলে দেখা দেয় রক্ত জমাট বাঁধা, পালমোনারি এম্বোলিজম, ফুসফুসের সংক্রমণ, বেড সোর সহ নানা রকম শারীরিক জটিলতা। যার থেকে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

রোগ নির্ণয়:

ডেক্সা বা বোন ডেন্সিওমেট্রির মাধ্যমে অস্টিওপোরোসিস নির্ণয় করা যায়।

প্রতিরোধ:

ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবার যেমন দুধ, টক দই, পনির, বাদাম, সবুজ শাকসবজি, পালংশাক, ব্রæকলি, ছোট মাছ এর পাশাপাশি ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট গায়ে রোদ লাগান। নিয়মিত কায়িক শ্রম, হালকা ব্যায়াম ও হাটতে হবে। অযথা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ,গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া বাদ দিতে হবে। ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস থাকলে তা বর্জন করুন। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

চিকিৎসা:

কারণ নির্ণয়ের মাধ্যমে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। সেই সাথে অস্টিওপরেসিসের ঝুঁকি নির্ণয়ের মাধ্যমে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা সঠিক সমন্বয় করতে হবে। অস্টিওপোরোসিসে একবার আক্রান্ত হলে তা কখনোই পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না। অস্টিওপোরেসিস এ প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের হাড় ভাঙে। মাত্র ২০ শতাংশ ক্ষয়জনিত হাড় ভাঙা রোগী যথাযথ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুযোগ পান। তাই অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কে আমাদের সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

ডা. এ হাসনাত শাহীন
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ,
কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল, তেজগাঁও, ঢাকা।

 
 
spot_imgspot_img

ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল ভিএফএস

ভিএফএস গ্লোবালের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভিএফএস গ্লোবাল। এবার তারা ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। ভিএফএস তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে...

জেলখানার চিঠি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস  কয়েদি নং: ৯৬৮ /এ  খুলনা জেলা কারাগার  ডেথ রেফারেন্স নং: ১০০/২১ একজন ব্যক্তি যখন অথই সাগরে পড়ে যায়, কোনো কূলকিনারা পায় না, তখন যদি...

কর্মসৃজনের ৫১টি প্রকল্পে নয়ছয় মাগুরায়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে হাজিরা খাতা না...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here