Saturday, June 22, 2024

কেউ বাঁচাতে এগিয়ে এলো না?

অর্থভুবন প্রতিবেদক
 
 

বিএনপির সমাবেশস্থলের কাছে দায়িত্ব পালনে গিয়ে নিহত হয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল

ইসলাম পারভেজ। এ সময় আশপাশে পুলিশসহ অনেক সাধারণ মানুষ ছিলেন, তাদের কেউ পারভেজকে বাঁচাতে এগিয়ে এলো না? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন স্ত্রী রুমা আক্তার। গতকাল রোববার বিকেলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার প্রমোদা সুন্দরী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পারভেজের মরদেহে শ্রদ্ধা জানায় প্রশাসনসহ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। ওই মাঠের উত্তর পাশে একটি চেয়ারে ৭ বছরের মেয়ে তানহাকে নিয়ে বসে বিলাপ করছিলেন রুমা। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের এখন কী হবে? মেয়েকে এখন কে পুলিশ অফিসার বানাবে? তোমাকে কেন এভাবে হত্যা করা হলো?’ পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার।

 

রুমা জানান, পারভেজের সঙ্গে আট বছর আগে বিয়ে হয়েছে। তাঁর কর্মস্থলের কাছাকাছি ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকার ভাড়া বাসায় স্বামী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে থাকেন। পারভেজ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকলেও মেয়েকে বড় কর্মকর্তা বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। মতিঝিল কলোনি বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছিলেন তানহাকে। সুখেই দিন কাটছিল তাদের।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন আমার স্বামী। সেখানে তাঁকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় অনেক সাধারণ মানুষ ও পুলিশ ছিলেন, কেউ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলো না?’ হত্যাকারীদের কঠোর বিচার দাবি করে তিনি বলেন, স্বামী দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাকে পুলিশ কর্মকর্তা বানানোর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন পারভেজ সেটি কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন?

পারভেজই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বলে জানান তাঁর বোন শেফালি। এখন তাদের সংসার কীভাবে চলবে– এ প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি দাবি করেন, যোগ্যতা অনুযায়ী পারভেজের স্ত্রী রুমা ও ভাই বিপ্লবকে যেন সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়।

দৌলতপুরের যমুনার ভাঙনকবলিত চরকাটারি গ্রামে বাড়ি পারভেজের। বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী মোল্লা ও রহিমা দম্পতির বড় ছেলে তিনি। ২০১১ সালে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। দেড় বছর আগে পাশের টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার ফয়েজপুর গ্রামে এক ব্যক্তির জমি ভাড়া করেন। সেখানে দুই কক্ষের চৌচালা ঘরে থাকেন সেকেন্দার-রহিমা দম্পতি। ছোট ছেলে বিপ্লবও সেখানেই থাকেন। চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পারভেজের পদায়ন হয় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশনে (সিটিআই-৩)। এর আগে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর ফকিরাপুল মোড়ে বিএনপিকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। সোয়া চারটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রমোদা সুন্দরী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা থেকে আনা হয় পারভেজের মরদেহ। সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ওই মাঠে জানাজা শেষে রাতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দৌলতপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বলেন, পুলিশ সদস্য পারভেজের আদি বাড়ি চরকাটারি গ্রামে। কিন্তু ওই এলাকার তাঁর পরিবারের কোনো জমি না থাকায় দৌলতপুর উপজেলা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেন, পারভেজের বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। তাঁর ছেলে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে শহীদ হয়েছেন।

 
spot_imgspot_img

ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল ভিএফএস

ভিএফএস গ্লোবালের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভিএফএস গ্লোবাল। এবার তারা ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। ভিএফএস তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে...

জেলখানার চিঠি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস  কয়েদি নং: ৯৬৮ /এ  খুলনা জেলা কারাগার  ডেথ রেফারেন্স নং: ১০০/২১ একজন ব্যক্তি যখন অথই সাগরে পড়ে যায়, কোনো কূলকিনারা পায় না, তখন যদি...

কর্মসৃজনের ৫১টি প্রকল্পে নয়ছয় মাগুরায়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে হাজিরা খাতা না...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here