Wednesday, June 19, 2024

টিউশনির টাকায় মায়ের জন্য ঘর

ঝিনাইদহের প্রত্যন্ত জিথোড় গ্রামে জন্ম আমার। জন্মের মাত্র এক বছরের মধ্যে বাবাকে হারিয়েছি। বাবা মারা যাওয়ার পর ১৭টি বাড়িতে কেটেছে ছোটবেলা। এর মধ্যে মাকে নিয়েও পেটে-ভাতে থেকেছি বিভিন্ন বাড়িতে।

 
ছোটবেলায় গালাগাল, অনাদর আর অবহেলার মধ্যে বড় হয়েছি। মানুষের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতাম। এ জন্য আশপাশের অনেকেই বাজে কথা শোনাত। বলত, মানুষের বাড়িতে থাকি, ঠিকমতো খেতে পারি না আবার পড়াশোনা করি, যেন গরিবের ঘোড়া রোগ।
 
স্কুলে বা কলেজের কোনো বন্ধু যদি আমাদের বাড়িতে যেতে চাইত নানা অজুহাতে এড়িয়ে যেতাম। কারণ আমারই তো থাকার জায়গার কোনো ঠিক নেই। অনেকে কৃপা করে থাকতে দিয়েছে তাদের বাড়িতে। যে মানুষগুলো সেই সময়ে থাকতে দিয়েছে তারা সবাই দেবতুল্য আমার কাছে।
 
মাত্র ২০ টাকা দামের একটা পুরনো প্যান্ট পরে চার বছর স্কুলে গিয়েছি। অন্যের বাড়িতে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলাম। পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর ঠিক করেছিলাম, আর পড়াশোনা করব না। এ জন্য ভর্তির সময় চলে গেলেও কোনো স্কুলে ভর্তি হইনি।
 
জানতে পেরে টিকারী বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিত্য বাবু একরকম জোর করেই আবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন। তখন কেয়ার প্রগ্রামের অধীনে রাস্তার মাটি কাটার কাজ করতেন মা। দৈনিক মজুরি মাত্র ৫০ টাকা।

 

এক পর্যায়ে মাকে নিয়ে ছোট একটা খড়ের ছাউনি দেওয়া মাটির ঘরে মাসখানেক থাকলাম। বাড়িতে শুধু একটি মাটির হাঁড়ি ছিল রান্নার জন্য, ভাত খাওয়ার েকানো থালাবাসন ছিল না। কলাপাতায় খেতে হতো। তরকারি বলতে শুধু আলু সিদ্ধ, শাক বা ডাল।

এভাবে হাজারো কষ্টের মধ্যে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেলাম। স্কুলবেলা থেকে টানা ১৮ বছর টিউশনি করেছি। টিউশনির টাকায় নিজের খরচ চালিয়ে বাকিটা পাঠিয়ে দিতাম মায়ের জন্য। তীব্র দারিদ্র্যের মধ্যে কাউকে বুঝতে দিতাম না আমার কষ্ট। টাকা থাকলে খেতাম, না থাকলে পেট ভরে জল খেতাম। তবু কারো কাছে হাত পাতিনি। একবার মাসের ২৫ তারিখেই পকেট খরচের টাকা ফুরিয়ে গেছে। এদিকে ৩০ তারিখে বা ১ তারিখের আগে টিউশনির বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। মানে মাসের বাকি পাঁচ দিন না খেয়ে থাকতে হবে। এসব নিয়ে টেনশনে অসুস্থ হয়ে রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলাম। পরের দিন ডাক্তার ছাড়পত্র দিতে চাইলেন। অনেক অনুরোধ করে ঢাকা মেডিক্যালে আরো পাঁচ দিন থেকে গেলাম। মেডিক্যালের ফ্লোরে ঘুমিয়েছি। তিনবেলা খেয়েছি। আর সেখান থেকেই টিউশনি ও ক্লাস করেছি। চিন্তায় থাকতাম, কোনো মাসে যদি টিউশনি না থাকে তাহলে তো না খেয়ে থাকতে হবে। আমি না হয় কোনো রকমে চলতে পারব, কিন্তু মায়ের কী হবে?    

মায়ের খুব শখ ছিল, একবার হলেও দালানঘরে থাকবেন। টিউশনি করে গ্রামে আমার মায়ের জন্য ইটের ঘর বানিয়ে দিয়েছি। মায়ের আরেকটি ইচ্ছা, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সামনাসামনি দেখবেন। এই ‘অসম্ভব’ স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনেক চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু উত্তর আসেনি। তার পরও আশায় আছি, হয়তো কোনো একদিন মায়ের সেই স্বপ্নও পূরণ হবে।

spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here