Wednesday, June 19, 2024

আমি ছিলাম বইয়ের পোকা

মায়া লিন। চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন স্থাপত্যশিল্পী। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রেসিডেন্সিয়াল মেডাল অব ফ্রিডম পেয়েছেন ২০১৬ সালে। জন্ম ১৯৫৯ সালের ৫ অক্টোবর। তার মা ও বাবা দুজনই ওহাইও বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন; সেখানেই স্কুলজীবন কেটেছে লিনের। স্থাপত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন ইয়েল বিশ^বিদ্যালয়ে। অ্যাকাডেমি অব অ্যাচিভমেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাম্পাস জীবনের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।

মায়া লিন

স্কুলে পড়ার সময় থেকেই আমি বোকাসোকা ছিলাম। স্কুলের অনুষ্ঠানগুলোয় খুব একটা অংশগ্রহণ করতাম না। মা-বাবা, ভাই আর আমিÑ এই ছিল আমার জগৎ। এমনকি আমি যখন ছোটো ছিলাম, আমার দাদা-দাদি ও নানা-নানিকেও চিনতাম না। সত্যি বলতে আমার ওরকম সামাজিকীকরণ হয়নি। আমি স্কুল পছন্দ করতাম। পাগলের মতো পড়াশোনা করতাম। বাবা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলার ডিন ছিলেন। আমি যখন স্কুলেই ভর্তি হইনি, তখনই আমি বিশ^বিদ্যালয়ে বেশ কিছু স্বাধীন কোর্স করেছিলাম। বাকিটা সময় খেলাধুলা নিয়ে মগ্ন থাকতাম।

হাই স্কুলেও আমি সবার সঙ্গে তেমন একটা মানিয়ে চলতে পারতাম না। কেন, তা বলতে পারি না। হয়তো আমি আলাদা ছিলাম। সহপাঠীদের চেয়ে আমি খাটো ছিলাম। আমার চোখে ওরা অবশ্য খুব সুন্দর ছিল। ওরা বন্ধুসুলভ ছিল। কিন্তু আমি সেভাবে মিশিনি। আমি নিজের মতো থাকতাম। লেখাপড়ায় ধ্যানজ্ঞান ছিল। এ গ্রেড পেতে ভালো লাগত। হাই স্কুলে আমি সর্বোচ্চ গ্রেডই পেতাম। আমি পড়তে পছন্দ করতাম। কোনো সহশিক্ষা আয়োজন আমাকে তেমন টানত না। আমার চলাফেরা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল বলা চলে। আমি বাড়িতে শৈল্পিক নানা কিছু তৈরি করতাম। আমার যে সৃজনশীলতা ও শৈল্পিক মন, তা আসলে শৈশব থেকেই পাওয়া। আমার সঙ্গে খেলার কেউ ছিল না। আর সে কারণে আমি নিজের একটা পৃথিবী গড়ে তুলেছিলাম।

আমাদের পরিবারে তখন কোনো লিঙ্গ বৈষম্য ছিল না। এটা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু সত্যি। আমি মেয়ে হিসেবে ভাগ্যবান। আমার ভাইয়ের থেকে নিজেকে কখনো ছোটো বা কম ভাবিনি। আমাদের পারিবারিক আদর্শ ছিল, জীবনে কী হতে চাইÑ সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, টাকা কামানো আমাদের জীবনের আদর্শ ছিল না। বরং আমাদের আদর্শ ছিল শেখা। পরিবারে বিদ্যায়তনিক শিক্ষার বিশেষ কদর ছিল। বিশেষ করে লেখাপড়াকে মা খুব গুরুত্ব দিতেন। আমি স্কুল ভালোবাসতাম। আমি ছোটো থেকেই চেয়েছিলাম, যে কোনো মূল্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাব।

ওহাইতে হাই স্কুল পড়া শেষে বন্ধুদের অনেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার কথা বলেছিল। কেউ কেউ বলেছিল, পড়ার আর কী বাকি আছে! কিন্তু আমি চেয়েছিলাম কলেজেও পড়ব। যারা শিক্ষার্জনকে গুরুত্ব দেয়, আমি তাদের শ্রদ্ধা করি। যখন আমি ছোটো ছিলাম, কেউ কিন্তু আমায় বলেনি, মেয়ে বলে কিছু হতে পারব না। এই শিক্ষা আমি ছোটোতেই পেয়েছি। এ কারণেই আমি এগোতে পেরেছি। এই শিক্ষাই যথেষ্ট। আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আমার জীবন বদলে দেওয়ার জন্য প্রেরণাদায়ী অনেক শিক্ষক ছিলেন। আমাকে তো অনেকে বলত, শিক্ষকদের ‘পোষা প্রাণী’। আমি এমনই ছিলাম। অন্য শিক্ষার্থীরা সম্ভবত এ কারণে আমাকে ভালো চোখে দেখত না। এ কারণেই হয়তো আমার কোনো বন্ধু ছিল না। কিছু শিক্ষকের সাথে আড্ডা দিয়ে সত্যিই ভালো লাগত। রসায়নের শিক্ষক, মিস ম্যাকালনের কথা মনে পড়ছে। আমি বিস্ফোরক বানাতে পছন্দ করতাম। আর তিনি পছন্দ করতেন আড্ডা। আমরা স্কুলের পরে একসঙ্গে আড্ডা দিতাম, আনন্দ করতাম।

আমি ছিলাম বইয়ের পোকা। বই পড়তে ভীষণ পছন্দ করতাম। যখন কোনো শিল্পকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম, তখন বই পড়া হতো না বলে খুব খারাপ লাগত। সুযোগ পেলেই আমি বই পড়তাম। হারিয়ে যেতাম বইয়ের কথামালায়।

ইয়েলে আমি যখন পড়তে গেলাম, তখন যুক্তিবিদ্যা, গণিত, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং আমার ভালো লাগত। আমি ভেবেচিন্তে স্থাপত্য অধ্যয়ন করতে চেয়েছিলাম। কারণ এতে যুক্তিবিদ্যা, গণিত ও কম্পিউটার প্রোগ্রামিংÑ সবকিছুই কাজে লাগবে। সাত বছর পড়েছি স্থাপত্য নিয়ে। এরপর নিজেকে একজন শিল্পী বলে মনে হয়েছে। আমি স্থাপত্য শিল্পী হয়েই বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। আমি এখনও একজন শিল্পী।

spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here