Wednesday, June 19, 2024

বিদেশে পড়তে গোছাতে হবে যে নথিপত্র

উচ্চশিক্ষায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই ইচ্ছে থাকে বিদেশে পড়া। বিদেশে পড়তে যেতে চাইলে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে বেশ আগে থেকেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করা, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের মতো কাজগুলো নিয়ে নানা সময়ই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো।

সুব্রত ব্যানার্জী অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি গবেষণা করছেন। উচ্চশিক্ষায় বিদেশে একটা লম্বা সময় কেটেছে তার। তিনি ক্রিমিনোলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব অটোয়াতে। বর্তমানে তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থেকে শিক্ষা ছুটিতে অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আবেদনের জন্য নতুনদের কোন কোন নথি প্রস্তুত রাখতে হবে সে সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসমূহ

পাসপোর্ট : মেয়াদসহ পাসপোর্ট অবশ্যই লাগবে। পাসপোর্ট না থাকলে আপনি আবেদন করতে পারবেন না।

অ্যাকাডেমিক সনদ : ব্যাচেলর ও মাস্টার্সের (যদি করা থাকে) অ্যাকাডেমিক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্টের স্ক্যান কপি পিডিএফ ও জেপিজি দুই ফরমেটেই সংরক্ষণ করুন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্তৃক মুখবন্ধ খামে যাচাইকৃত সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট পাঠাতে হতে পারে (ডাকযোগে)। আবেদনের সময় চেক করিয়ে নিতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে। প্রতি পেইজ সম্ভবত ৫০ টাকা করে লাগে।

ইংরেজিতে দক্ষতা : নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপসহ সুযোগ পেতে হলে অবশ্যই ইংরেজি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষার স্কোর ও (বিষয় ও দেশভেদে আইইএলটিএস, জিআরই, টোফেল যেকোনো একটি বা দুইটি লাগতে পারে) সনদের প্রয়োজন হবে (আবেদনের আগে স্কোর হাতে রাখুন ও সনদ স্ক্যান করে রাখুন)। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়াম অফ ইন্সট্রাকশন ইংরেজিতে হলে রেজিস্ট্রার অফিসে আবেদন করে অ্যাকাডেমিক শাখা থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে রাখুন।

রিসার্চ প্রপোজাল : পিএইচডির আবেদনের জন্য অবশ্যই প্রফেসরদের ই-মেইল লেখার আগেই গবেষণা প্রস্তাবনা রিসার্চ প্রপোজাল প্রস্তুত করুন। দেশভেদে গবেষণা প্রস্তাবনা ১০০০-২০০০ শব্দের মধ্য হয়ে থাকে। তবে কানাডা আমেরিকাতে থিসিস মাস্টার্সে আবেদন করতে হলে সেখানেও রিসার্চ প্রপোজাল লাগতে পারে। পিএইচডির ক্ষেত্রে যে কোনো দেশেই আবেদনের জন্য অবশ্যই আপনার পাবলিকেশন বা পূর্ববর্তী গবেষণার সঙ্গে মিল রেখে প্রপোজাল প্রস্তুত রাখা জরুরি। পিএইচডির আবেদনে সুপারভাইজার পাওয়ার ক্ষেত্রে রিসার্চ প্রপোজাল খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্টেটম্যান্ট অব পারপাস : স্টেটম্যান্ট অব পারপাস (ঝঙচ) ১০০০ শব্দের মধ্যে লিখে রাখুন। অনেক জায়গায় মোটিভেশন লেটারও চাইতে পারে, দুটির ভেতর খুব বেশি পার্থক্য নেই।

সিভি : একটি উত্তম সিভি খুবই জরুরি। আপনার সব যোগ্যতা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবে আপনার সিভি; চাকরির সিভি আর উচ্চশিক্ষার সিভি অনেকটাই আলাদা। অ্যাকাডেমিক সিভিতে আপনার গবেষণা, প্রকাশনা ও অ্যাকাডেমিক কাজকে অন্তর্ভুক্ত করুন।

ডকুমেন্টস সংরক্ষণ : আপনার সব প্রকাশনা স্ক্যান করে পিডিএফে রাখতে পারেন। আবেদনের সময় যেকোনো একটি সাবমিট করতে হতে পারে নমুনা হিসেবে। আর পিএইচডির ক্ষেত্রে মাস্টার্সের থিসিসের ইলেকট্রনিক কপি দেখতে চাইতে পারে, অথবা অ্যাবস্ট্রাক্ট-সহ কয়েক পেইজ সাবমিট করতে হতে পারে। তাছাড়া কোনো কনফারেন্স, সেমিনারে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করলে সার্টিফিকেট বা অ্যাবস্ট্রাক্ট প্রকাশনা স্ক্যান করে রাখুন, প্রয়োজন লাগতে পারে।

অভিজ্ঞতাপত্র : আপনার যদি গবেষণায় চাকরির অভিজ্ঞতা থাকে, অথবা আপনি যেই চাকরি করেছেন বা করছেন সেই প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞতা সনদ নিয়ে রাখুন। কেউ শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ফিল্ড ইনভেস্টিগেটর বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে থাকলে তার সনদ বা অভিজ্ঞতাপত্র নিয়ে রাখুন। এগুলো যে আবেদনে অবশ্যই লাগবে তা নয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে লাগতে পারে।

অ্যাকাডেমিক অর্জন অন্তর্ভুক্তকরণ : শিক্ষাজীবনে কোনো অ্যাকাডেমিক অর্জন থাকলে (ডিনস অ্যাওয়ার্ড, গোল্ড মেডেল, প্রধানমন্ত্রী পদক বা অ্যাকাডেমিক কোনো সাফল্য) সিভিতে উল্লেখ করুন এবং সার্টিফিকেট সংগ্রহে রাখুন। রেজাল্ট ভালো থাকলে সিভিতে অবস্থান ও সিজিপিএ অথবা পার্সেন্টেজ অবশ্যই উল্লেখ করুন।

রেকমেন্ডেশন লেটার : মাস্টার্স বা পিএইচডির আবেদনে ২ থেকে ৩ জন রেফরির সুপারিশপত্র বা রেকমেন্ডেশন লেটার অবশ্যই লাগবে। আজই চিন্তা করুন কোন শিক্ষক বা চাকরি ক্ষেত্রে কাকে নির্বাচন করবেন এই রেকমেন্ডেশন লেটার দেওয়ার জন্য। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আপনার ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের শিক্ষকের কাছ থেকে রেকমেন্ডেশন লেটার চাওয়া হয়। আপনি চাইলেই যেকোনো শিক্ষকের নাম দিতে পারবেন না। শতকরা ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে আপনার ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের রিসার্চ পেপার বা থিসিসের সুপারভাইজরের রেকমেন্ডেশন লেটার চাওয়া হয়। আপনি চাইলে আপনার সুপারভাইজরের পাশাপাশি অন্য কোনো কোর্স টিচারের নামও দিতে পারেন। তাই আবেদনের ৬ মাস আগে থেকেই আপনি তাদের জানিয়ে রাখুন যে আপনার সামনে পরিকল্পনা আছে উচ্চশিক্ষার আবেদনের। আপনার সিভিতেও তাদের নাম থাকা জরুরি। মাথায় রাখবেন রেকমেন্ডেশন লেটারেও মার্কস থাকে ভর্তি ও স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে।

spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here