Thursday, June 13, 2024

হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বাঁচার উপায়

হিংসা-বিদ্বেষ মারাত্মক এক প্রকার বিষয়। ক্ষতিকর এ বিষ সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যাকে হিংসা করা হয় তার যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি যে ব্যক্তি হিংসা করে সেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হিংসা মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ নষ্ট করে। অন্য কারও নেয়ামতের অপসারণ ও বিলুপ্তি কামনা করাই হিংসা। অর্থাৎ কারও জ্ঞান-গরিমা, ইজ্জত-সম্মান, ধন-সম্পদ, সুখ-সমৃদ্ধি ও উন্নতি দেখে মনে মনে তার ধ্বংস কামনা করার নাম হিংসা। এটি আত্মার মারাত্মক ব্যাধি। ইসলামের দৃষ্টিতে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও কবিরা গুনাহ। হিংসাকারীকে আল্লাহ তায়ালা অপছন্দ করেন। কারণ প্রকৃতপক্ষে হিংসা আল্লাহর তকদিরের ওপর আপত্তির শামিল। তা এভাবে, ব্যক্তি তার অন্তরে এই প্রশ্ন লালন করা যে, আল্লাহ কেন তাকে উন্নতি, সমৃদ্ধি দান করেছেন? পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে মানুষকে যা দান করেছেন, তারা কি সে বিষয়ে হিংসা করে।’ (সুরা নিসা : ৫৪)
 
হিংসার ক্ষতি : যার ব্যাপারে হিংসা করা হয় তার কোনো ক্ষতি হয় না বরং হিংসুক নিজেই হিংসার আগুনে দগ্ধ হয়। তা ছাড়া হিংসার ফলে নেক আমলগুলো নষ্ট হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা আগুন যেমন লাকড়ি ভস্মীভূত করে দেয়, তেমনি হিংসা মানুষের নেক আমল বরবাদ করে ফেলে’ (আবু দাউদ)। ফকিহ আবুল লায়স সমরকন্দি (রহ.) বলেন, হিংসার চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছু নেই। কেননা হিংসুক ব্যক্তি কখনো অন্তরে শান্তি অনুভব করে না। বরং সর্বদা এক অব্যক্ত যন্ত্রণায় ভুগতে থাকে। মানুষের কাছে সে হয় অপাঙ্ক্তেয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে হয় ঘৃণিত। বরাত ও কদরের পুণ্যময় রজনিতেও হিংসুক ব্যক্তি আল্লাহর কৃপা ও ক্ষমা থেকে হয় বঞ্চিত। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘মধ্য শাবানের রাত্রিতে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় সৃষ্টির প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সব সৃষ্টিকে ক্ষমার ঘোষণা করেন।’ (ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৩)
 
হিংসা ব্যাধি থেকে বাঁচার উপায় : হিংসার ব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহভীরু আলেমরা কয়েকটি উপায় বলে দিয়েছেন। তা হলো- ১. যার প্রতি হিংসা হবে, তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকা; ২. লোকসমাজে তার প্রশংসা করা; ৩. তাকে হাদিয়া বা উপহার দেওয়া। হাদিসে আছে, ‘তোমরা একে অন্যকে হাদিয়া দাও। এর দ্বারা মনের কালিমা দূর হয়’ (তিরমিজি); ৪. সালামের আদান-প্রদান করা। সালাম দ্বারা পরস্পর মহব্বত বৃদ্ধি পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দেব, যার দ্বারা তোমাদের মধ্যে ভালোবাসার সৃষ্টি হবে। সেটা হলো পরস্পর বেশি বেশি সালামের আদান-প্রদান করা’ (মুসলিম); ৫. মনে মনে এই চিন্তা করা যে, আল্লাহ তায়ালা আমাকে এমন কিছু দিয়েছেন যা তাকে দেননি। আর আমি তো হিংসা করে তার নেয়ামত দূর করতে পারব না। এভাবে চিন্তা করলে এবং উপরোক্ত উপায়গুলো অবলম্বন করলে ধীরে ধীরে হিংসা রোগ অন্তর থেকে দূর হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বোঝার ও আমল করার তওফিক দিন।
spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here