Wednesday, June 12, 2024

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা

 নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অচলাবস্থা কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আবারও বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও মুক্তভাবে জাতীয় নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে দেশটি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমরা অব্যাহতভাবে বলে আসছি যে-আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং মুক্ত নির্বাচন হওয়া উচিত। তা হতে হবে সহিংসতামুক্ত। এদিকে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এরই মধ্যে বাংলাদেশের নড়বড়ে অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করছে। এতে ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য উচ্চ ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে গতকাল বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান জয়েন্দু দে, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক ও ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সোলেইমান সৌলিবালি এবং সিনিয়র ইকনোমিস্ট বার্নার্ড হ্যাভেন। রাজধানীর গুলশানে পিটার হাসের বাসভবনে যান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা। গত কয়েকমাসে দেশে একটি বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তা হলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জনমনে ইতোমধ্যে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রথমে ছিল নিষেধাজ্ঞা, পরে ভিসানীতি এরপর এখন আলোচনায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। দেশে কি আসলেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসবে?

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা ‘ইকোনমিক স্যাংশন সম্পর্কে দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে যতই অগ্রসর হচ্ছে, ততই প্রতিশোধ হিসেবে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি, বিরোধী দলীয় সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার, হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে খেয়ালখুশিমতো গণগ্রেপ্তার, কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, প্রতিবাদ বিক্ষোভে বিঘœ হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ‘অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা’ বা ‘ইকোনমিক স্যাংশন’ মূলত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ। কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় অন্য যে কোনো দেশকে এই নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসছে এমন একটি প্রবন্ধ লিখেন ঢাকার এক সিনিয়র সাংবাদিক। যেখানে বলা হয়, কিছুদিনের মধ্যেই দেশে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসবে। আর গতকাল ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে কিছুটা। 

এদিকে ২৮ অক্টোবর বিরোধীদলের মহাসমাবেশ পুলিশ প- করে দেয়ার পর থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে বড় রকমের দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। বিএনপি বলছে, তখন থেকেই তাদের প্রায় সব শীর্ষ নেতা ও কমপক্ষে ১১ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে চলমান অবরোধ। দেশকে গ্রাস করেছে সহিংসতা। এমন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বলেছে, রাষ্ট্রদূত পিটার হাস তিনটি বড় রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে মিটিং আহ্বান করেছেন। গত সোমবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়, সংলাপ বিষয়ে চার দফা অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে মার্কিন অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করতে দেশের প্রধান তিন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র একটি চিঠি তিনি প্রধান তিন দলের নেতাদের কাছে হস্তান্তর করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধান তিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

এদিকে বর্তমানে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সব মিলিয়ে বাংলাদেশের কাছে ৭ হাজার ২২৯ কোটি ডলার পায়। বাংলাদেশী মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এই পরিমাণ অর্থ বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশের ঋণ আছে। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঋণ স্থিতি রয়েছে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে, ১ হাজার ৮১৬ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংকের পরের সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি), ১ হাজার ৩২৮ কোটি ডলার। জাপানের ঋণ স্থিতি ৯২৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া রাশিয়া ও চীনের ঋণ রয়েছে যথাক্রমে ৫০৯ কোটি ডলার ও ৪৭৬ কোটি ডলার। আইএমএফের কাছে ঋণের পরিমাণ ৯৮ কোটি ডলার। নতুন করে সংস্থাটির কাছ থেকে আরো ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন ঋণের প্রথম ছাড়ও করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ঋণ পেতে সময় লাগবে ৪২ মাস। আইএমএফ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের ঋণ এখনো ঝুঁকিমুক্ত সীমার মধ্যেই আছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ২৭৮ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে। প্রতিবছরই এ পরিমাণ বাড়বে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪০২ কোটি ডলারে। ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৫১৫ কোটি ডলার খরচ হবে। এরপর ঋণ পরিশোধ কমতে থাকবে।

অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে বাংলাদেশের ওপর চাপ দেয়ার আহ্বান জাতিসংঘে: বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এখানে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশকে চাপ দিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। তাদের একটি বিবৃতি ১৪ নবেম্বর ওয়েসবাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আদিলুর রহমান খান, নাসিরুদ্দিন এলানকে হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, চলমান আন্দোলনে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যদি বিরোধীদল বিহীন যেনতেনভাবে নির্বাচন করে তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বিশৃংখল হলে হস্তক্ষেপ করতে পারে বিশেষ কোনো বাহিনী। তাই আগামী বছর জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অথবা পরে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। জালিয়াতির বা বিতর্কিত নির্বাচন হলে তাতে তীব্র সরকারবিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা অন্য দেশগুলো যেহেতু নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে (এর মধ্যে থাকতে পারেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা, অর্থনৈতিক ও সামরিক এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠিন নিষেধাজ্ঞা), তাই সরকার অধিক পরিমাণে ভারত ও চীনের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। আর এইসব কারণে বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংস হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে-মার্কিন প্রশাসন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ নামে একটি আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে চলতি বছরের জুলাই মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। ২০২৩ সালের এই প্রতিবেদনে আইএমএফ থেকে বাংলাদেশের ৩৩ লাখ ডলারের ঋণ নেওয়া, রিজার্ভ সংকট, দুর্নীতি ও সহিংসতার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, ২০২৩ এর শেষ বা ২০২৪ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা বাড়তে পারে। (২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা ভোটে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ঐ নির্বাচনকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে) ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পার্লামেন্টের তিনশ’ আসনের মধ্যে দুইশ’ ঊননব্বইটিতে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন হলেও ব্যাপক কারচুপি, ব্যালট বাক্স ভরা এবং প্রার্থী ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে তা ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচন পূর্ববর্তী হয়রানি ও সহিংসতা বিরোধীদলের প্রার্থী ও সমর্থকদের সভা, শোভাযাত্রা ও গণসংযোগে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও দমন পীড়নে বিরোধী দলকে কোনঠাঁসা করে রাখায় সুশীল সমাজের উদ্বেগের কথাও এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) নামক সংগঠনটি অক্টোবর ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৪ সাল পর্যন্ত কী ঘটতে পারে বাংলাদেশে তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি রিপোর্টে আরও বলেছে, বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সমর্থকরা রাজপথের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারেন। হামলা হতে পারে দলীয় অফিস ও প্রার্থীদের ওপর। সরকারের বিরোধিতায় আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো। 

নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নজরদারি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যে ব্যবস্থা তা শুধুমাত্র ভিসা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং তারা ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তাদের মূল পরিকল্পনা হলো শেষ পর্যন্ত একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামীতে আর কি কি পদক্ষেপ নিতে পারে তা হলো: আরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা, বাংলাদেশি মার্কিন নাগরিক ও তাদের আত্মীয়দের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, বাণিজ্য সংকোচন বা নিষেধাজ্ঞা, সামরিক সহায়তা বন্ধ কারা এবং অর্থনৈতিক অবরোধের মতো কঠিন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। 

তারা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পর্যায়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর কয়েকজনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই সংখ্যা কত তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এটি চার শতাধিক। তবে এটি অনুমিত একটি তথ্য।  রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন গণমাধ্যমকে বলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই যা করার বিএনপিকে করতে হবে। এই একমাস বিএনপির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা কীভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে, এরপর নির্বাচনে আসবে নাকি আসবে না, দাবি আদায় না হলে কী করবে, সব কিছুই এই মাসেই পরিষ্কার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সরকারের ভিসা নীতি প্রয়োগের যে বিষয়টি এসেছে, সেটা আসলে দুই দলকেই বেশ চাপে ফেলেছে। অক্টোবরে বড় ধরনের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিএনপির বড় ধরনের যে হুঙ্কার, সেখানে তারা চাপে থাকবে। অন্যদিকে বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগের মাঠে নামার যে সিদ্ধান্ত বা কৌশল, সেখানেও ভিসা নীতি বিশেষ বিবেচনায় থাকবে। ফলে দুই দলই চাপে থাকবে বলা যায়।

সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে আওয়ামী লীগকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিরাজমান সংকট দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে আওয়ামী লীগকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে এই চিঠি হস্তান্তর করেন।

পরে পিটার হাস সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। দেশে চলমান সহিংসতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সংলাপের চিঠি নিয়ে পারলে আজই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবো। দলের সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, নিঃশর্ত সংলাপের আলোচনা বিএনপিকে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা শর্ত জুড়ে দিয়েছিল। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সময় পেরিয়ে গেছে। সংলাপ হলে কাউকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। এই সময়ে সংলাপ সম্ভব কিনা, সেটাই বিষয়।

spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here