Saturday, June 22, 2024

শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে স্মার্ট বাংলাদেশের পদযাত্রা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার মধ্যে একটি বড় মিল হলো- তাদের দুজনই জনগণকে যে কথা দেন, তা রাখেন; যে স্বপ্ন দেখান, তা বাস্তবে রূপ দেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন ভূখণ্ডের স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং তা আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন। জাতির পিতার তনয়াও ডিজিটাল বাংলাদেশ, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ যত অঙ্গীকার এ দেশের মানুষকে দিয়েছেন- এর সবই এখন দৃশ্যমান; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে যা বলেছেন, এর চেয়ে বেশি করে দেখিয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে কৃষি, যোগাযোগ অবকাঠামোসহ এমন কোনো খাত নেইÑ যেখানে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও জননেত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, “২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এ পরিণত হবে।” এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল একটি উন্নত দেশ, সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ, ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠী, রূপান্তরিত উৎপাদনব্যবস্থা, নতুন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, সর্বোপরি একটি জ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক দেশ গঠন করা। ২০০৮ সালে দেওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ওই প্রেরণাদায়ী অঙ্গীকার তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধান এবং নির্দেশনায় কানেক্টিভিটি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্নমেন্ট ও আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশনে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রধান স্তম্ভ নির্ধারণ করে ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবায়ন হয়েছে। এ রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে বাংলাদেশ বিপ্লব সাধন করেছে। এখন প্রান্তিক অঞ্চলের ছোট্ট শিশুর উপবৃত্তির টাকা তার মায়ের হাতের মোবাইল ফোনটিতে চলে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারের প্রায় সব দপ্তরেরই প্রাথমিক তথ্য ও সেবা মিলছে ওয়েবসাইটে। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি; চাকরির আবেদন; পড়াশোনা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফোন বিলসহ বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধ; মোবাইল মানি ট্রান্সফার; ব্যাংকিং; পাসপোর্ট আবেদন; ভিসা প্রসেসিং’ বিমানের টিকিট; রেলওয়ে টিকিটিং; ই-টেন্ডারিং; টিন সনদ; আয়কর রিটার্ন; ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন; জিডি; জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাচ্ছে অনলাইনে অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সেবা পাচ্ছে জনগণ যা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে ২০০৯ সালের আগে বাংলাদেশে সরকারি কোনো সেবাই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছিল না। রাষ্ট্র পরিচালনায় সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী অনন্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার সফলভাবে বাস্তবায়নের পর তিনি এখন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে হাত দিয়েছেন। স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি- এ চারটি মূল ভিত্তির ওপর গড়ে উঠবে ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত, জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী, স্মার্ট বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ধারণা দিলেন- যে সময় ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব হলো শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে অতি উচ্চমানের সফট ও হার্ড প্রযুক্তির ব্যবহার যা দ্রুত এবং অধিকতর অর্থনৈতিক বিকাশের সহায়ক। ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব’ ধারণার প্রধান বিষয় যান্ত্রিক ও কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার যুগান্তকারী অগ্রগতি। তা হলে সেলফ অপটিমাইজেশন, সেলফ ডায়াগনসিস, সেলফ কনফিগারেশন প্রভৃতি। ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসÑ এই বিপ্লবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তথ্য সৃজন ও বিতরণ, কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার প্রয়োগ এবং ইন্টারনেটের সমন্বিত ব্যবহারে পুরো বিশে^ এই বিপ্লব এক বিপুল পরিবর্তন আনতে চলেছে। ফলে বিশ^ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও দ্রুত পরিবর্তিত হবে এবং আর্থিক শক্তিকেন্দ্রে পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও রয়েছে যথেষ্ট সম্ভাবনা। ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের জন্য যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন হলে সমান্তরালভাবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় প্রস্তুত হয়ে উঠবে বাংলাদেশ।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে উন্নতির জন্য অপরিহার্য ১০টি দক্ষতার উল্লেখ করেছে। তা হলো জটিল সমস্যার সমাধান, বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা, মানব ব্যবস্থাপনা, অন্যের সঙ্গে সমন্বয়, আবেগীয় বৃদ্ধিমত্তা, বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সেবা অভিযোজন, আলাপ-আলোচনা এবং জ্ঞানীয় নম্রতা। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের এটুআই প্রোগ্রাম এবং আইএলওর যৌথ সমীক্ষায় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের জন্য করণীয়র ৬টি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলো সনাতনী শিক্ষা পদ্ধতির রূপান্তর, অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন, গবেষণা, সরকারি নীতিমালার সহজীকরণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষতা কাজে লাগানো ও রাষ্ট্রীয় ব্র্যান্ডিং। অর্থাৎ আসন্ন শিল্পবিপ্লবের সফল অনুঘটক হতে গেলে ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক মেধার সমন্বিত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহ নেই এ ক্ষেত্রে গোটা শিক্ষাব্যবস্থা, বিশেষ করে বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উন্নত বিশে^র অনেক দেশ ইতোমধ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য তাদের বহুমুখী প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই প্রস্তুতির প্রধান অংশ মূলত উচ্চতর প্রযুক্তি জ্ঞান ও গবেষণা সংক্রান্ত হওয়ায় বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে এ ব্যাপারে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তি শিক্ষায় পারদর্শী করে তুলতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৩ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩টি বিশেষায়িত ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের মধ্যে আরও ৩৫ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আমাদের স্মার্ট প্রধানমন্ত্রীই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস জোগান। আমরা যেমন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গর্ব করি, তেমনিভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিকরা বুক ফুলিয়ে উচ্চারণ করবেÑ আমাদের একজন শেখ হাসিনা ছিলেন।

অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম : উপাচার্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

spot_imgspot_img

ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল ভিএফএস

ভিএফএস গ্লোবালের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভিএফএস গ্লোবাল। এবার তারা ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। ভিএফএস তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে...

জেলখানার চিঠি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস  কয়েদি নং: ৯৬৮ /এ  খুলনা জেলা কারাগার  ডেথ রেফারেন্স নং: ১০০/২১ একজন ব্যক্তি যখন অথই সাগরে পড়ে যায়, কোনো কূলকিনারা পায় না, তখন যদি...

কর্মসৃজনের ৫১টি প্রকল্পে নয়ছয় মাগুরায়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে হাজিরা খাতা না...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here