Thursday, June 13, 2024

অপরিকল্পিত উন্নয়নে কমছে প্রজাপতি

পরিবর্তন, আনন্দ, ভালোবাসা ও রূপান্তরের প্রতীক প্রজাপতি। প্রজাপতি শব্দটি শুনলে প্রথমেই মাথায় চলে আসে রংবেরঙের পাখনাওয়ালা পতঙ্গের কথা। প্রজাপতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে প্রকৃতির। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অন্যান্য প্রাণীর মতো প্রজাপতিরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

এদিকে অপরিকল্পিত উন্নয়ন আর নগরায়ণের ফলে দিন দিন কমছে প্রজাপতির সংখ্যা।

 

প্রজাপতির বিলুপ্তি আটকাতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে গত শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে এ মেলার ১৩তম আসর।

শোভাযাত্রা, প্রজাপতির গল্পে পাপেট শো ও প্রজাপতির অরিগ্যামি প্যারেড, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতিবিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী, জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি ওড়ানো, বারোয়ারি বিতর্ক, প্রজাপতিবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এবারের মেলা।

 

মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম। তিনি বলেন, ‘প্রজাপতি বাঙালির কাছে অত্যন্ত প্রিয়। আমি লক্ষ করে দেখেছি, প্রজাপতি মেলা উপভোগের জন্য সবাই অধির আগ্রহে থাকেন। আমি যে ভবনে বসবাস করি ওখানে অনেক ধরনের প্রজাপতি দেখা যায়।

দেখে ভালো লাগে। পরিবেশ ও প্রকৃতি ভালো থাকলে, মানুষ ভালো থাকে। প্রকৃতির সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমাদের দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।’

মেলা উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ক্যাম্পাসে এসেছেন বদরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। কাজের চাপে সব সময় প্রকৃতির কাছে যাওয়া হয়ে ওঠে না। নগরের যান্ত্রিক জীবন থেকে বেরিয়ে এসে আজ (গতকাল শুক্রবার) বাচ্চাদের নিয়ে প্রজাপতি মেলায় এসেছি। তারা প্রজাপতি দেখে খুশি হয়েছে।’

 

জাবি শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব বলেন, ‘প্রজাপতি কোন গাছ থেকে মধু খায়, কোন গাছে ডিম দেয়, তা মেলায় এসে জানতে পেরেছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গাছ কেটে, বন উজাড় করে যত্রতত্র ভবন হচ্ছে, ভবনে মানুষ থাকতে পারবে কিন্তু প্রজাপতি তো আর ভবনে বাস করে না, তার খাবারও সে ভবনে পায় না। প্রজাপতির খাবার এবং আবাসনের জন্য প্রয়োজন গাছ, বনাঞ্চল। যখন গাছ এবং বনাঞ্চল উজাড় করে দেবেন তখন তো স্বাভাবিকই প্রজাপতির সংখ্যা দিন দিন কমবে। আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা প্রজাপতি মেলার আয়োজন করে থাকি। মেলা শুরুর সময় জাহাঙ্গীরনগরে ১১০ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া গেলেও বর্তমানে ৫৭ প্রজাতির প্রজাপতি দেখা যায়।’

 
 
spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here