Friday, June 21, 2024

শেয়ারবাজারে ব্লক মার্কেট সিন্ডিকেট

শেয়ারবাজারে ফ্লোর প্রাইসের (নিম্নসীমা) মধ্যেও সুবিধায় রয়েছে বড় ও প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীরা। যাদের ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ আছে, তারা ব্লক মার্কেটে বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ কম দামে শেয়ার কিনছে। আবার সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করছে।

এ কারণে বর্তমানে বাজারে ব্লক মার্কেটকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এতে আটকা পড়েছে সাধারণ ও ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারী। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এসব সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বলছে, বিষয়টি তারা নজরদারি করছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্লক মার্কেটকেন্দ্রিক কিছু কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়। কারণ কারও বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার কম হলে এখানে লেনদেন করা যায় না। আমাদের পরামর্শ ছিল এটি আড়াই লাখ করা। কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি। এটি করা হলেও অনেকে সুযোগ পেত। তবে তিনি বলেন, মূল কথা হলো ফ্লোর প্রাইস তুলে নিতে হবে। না হলে বাজারের সমস্যা কাটবে না।

জানা গেছে, কোনো কোম্পানির শেয়ারের অতিরিক্ত লেনদেন, ওই কোম্পানির শেয়ারে যাতে কোনো প্রভাব না ফেলে এজন্য ব্লক মার্কেট চালু করা হয়। এই মার্কেটে ক্রেতা-বিক্রেতা পূর্বনির্ধারিত। এখানে বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ কম বা বেশি দামে শেয়ার লেনদেন করা যায়। অর্থাৎ কোনো একটি কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য ১০০ টাকা। ব্লক মার্কেটে এটি সর্বনিম্ন ৯০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০ টাকায় লেনদেন করা যাবে।

এদিকে গত বছরের ২৮ জুলাই বাজারে দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে বিএসইসি। ফ্লোর প্রাইসের কারণে ২ শতাধিক কোম্পানি আটকে যায়। তবে ফ্লোর প্রাইসের ক্ষেত্রে ব্লক মার্কেটে বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ কম দামে শেয়ার লেনদেনের সুযোগ ছিল না। কিছু মানুষকে সুবিধা দিতে গত বছরের নভেম্বরে চালু হয় নতুন নিয়ম। এ সময় একটি সার্কুলারের মাধ্যমে বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ কম দামে লেনদেন চালু করে বিএসইসি।

নিয়ম অনুসারে কোনো বিনিয়োগকারীর ৫ লাখ টাকা বা তার বেশি বিনিয়োগ থাকলে, ব্লক মার্কেটে লেনদেন করতে পারে। আর এ সুযোগ লুফে নেয় সিন্ডিকেট। তারা ব্লক মার্কেট থেকে ১০ শতাংশ কম দামে শেয়ার কিনে মূল বাজারে তা ১০ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি করছে। এর সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছে।

গত দুই মাসের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১ অক্টোবর ১৪৫টি কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে ছিল। মূল মার্কেটে এসব কোম্পানির কোনো লেনদেন হয়নি। কিন্তু ব্লক মার্কেটে একটি অর্ডারে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। একইদিন ৪ লাখ ৮১ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এমারেল্ড অয়েলের। ৯ লাখ ১৪ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে সিএনএ টেক্সটাইলের।

৪ লাখ ৯৬ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে সীপার্লের। পরের দিন ২ অক্টোবর ফ্লোর প্রাইসে কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৪০টির ওপরে। এর বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের কোনো ক্রেতা ছিল না। কিন্তু একইদিন ব্লক মার্কেটে ইস্টার্ন ব্যাংকের তিনটি অর্ডারে ৫০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজারমূল্য ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ৩০ অক্টোবর ৯টি অর্ডারে এমারেল্ড অয়েলের ২ লাখ ৭২ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

৩১ অক্টোবর তিনটি অর্ডারে এনআরবিসি ব্যাংকের সাড়ে ৪ কোটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। মোট বাজারমূল্য ছিল ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ওইদিনও ১৭৪টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়নি। ২২ নভেম্বর ২৭টি অর্ডারে স্কয়ার ফার্মার ২ লাখ ৫৭ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ছিল ৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এই লেনদেনের সঙ্গে স্কয়ার ফার্মার উদ্যোক্তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

সর্বশেষ বুধবার ১১টি অর্ডারে সীপার্লের ৯ লাখ ৪২ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে যে কোম্পানির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হলো-সীপার্ল, এমারেল্ড অয়েল, সিএনএ টেক্সটাইল, ফুয়াং ফুড, ফুয়াং সিরামিক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং এনআরবিসি ব্যাংক।

প্রসঙ্গত ফ্লোর প্রাইস হলো শেয়ার দাম কমার নিম্নসীমা। করোনার সময় অস্থিরতা ঠেকাতে নতুন নিয়ম চালু করেছে বিএসইসি। এর নাম শেয়ারের ‘ফ্লোর প্রাইস’। এক্ষেত্রে কোনো শেয়ারের দামের ভিত্তি হবে আগের ৫ দিনের সর্বশেষ লেনদেনের (ক্লোজিং প্রাইস) গড় দর। কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইসের নিচে নামতে পারবে না। কিন্তু দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারবে।

এরপর ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে দরপতন ঠেকাতে গত বছরের ২৮ জুলাই পুঁজিবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস দেয় বিএসইসি। এখনো সেটি বহাল আছে। এর ফলে বর্তমানে ২ শতাধিক কোম্পানির লেনদেন আটকে আছে।

সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো ফ্লোরপ্রাইস দেওয়া হয়েছে বিনিয়োগকারী নামধারী একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের কথায়। তবে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন এমন প্রভাবশালীরা ব্লক মার্কেটে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ ওনাদের জন্য সব দরজা খোলা।

spot_imgspot_img

ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল ভিএফএস

ভিএফএস গ্লোবালের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভিএফএস গ্লোবাল। এবার তারা ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। ভিএফএস তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে...

জেলখানার চিঠি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস  কয়েদি নং: ৯৬৮ /এ  খুলনা জেলা কারাগার  ডেথ রেফারেন্স নং: ১০০/২১ একজন ব্যক্তি যখন অথই সাগরে পড়ে যায়, কোনো কূলকিনারা পায় না, তখন যদি...

কর্মসৃজনের ৫১টি প্রকল্পে নয়ছয় মাগুরায়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে হাজিরা খাতা না...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here