Saturday, June 22, 2024

ঢাকার মাত্র ১৬% মানুষ খেলাধুলার পরিষেবা পায়

* মাঠ-পার্কের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি

* ব্যক্তির জন্য ন্যূনতম ৯ বর্গমিটার খোলা জায়গা দরকার 

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম এক ঘণ্টা করে খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ন্যূনতম ৯ বর্গমিটার খোলা জায়গা (খেলার মাঠ, পার্ক ইত্যাদি) থাকা উচিত। সে হিসাবে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য সোয়া দুই একর খোলা জায়গা এবং এক একর খেলার মাঠ দরকার। অথচ ঢাকা শহরের মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ খেলাধুলার পরিষেবার মধ্যে বাস করে।

 

গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দেশের নগর এলাকার খেলার মাঠের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে এই সভা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, ইউএন-হ্যাবিটেটের মতে, হাঁটা দূরত্বে খেলার মাঠ ও সবুজ এলাকা থাকা উচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী যেকোনো আবাসন এলাকার ন্যূনতম ১০ শতাংশ খেলার মাঠ-পার্ক প্রভৃতি সুবিধার জন্য বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন।

 
অতি ঘন নগর এলাকায় প্রতি অর্ধ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জনসংখ্যা বিবেচনায় ন্যূনতম একটি খেলার মাঠ থাকা দরকার। সেখানে ঢাকা শহরের মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ খেলাধুলার পরিষেবার মধ্যে বাস করে। দেশের অন্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও আছে খেলার মাঠের তীব্র সংকট। সাম্প্রতিক সময়ে নগর এলাকার মাঠ-পার্ক উন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগগুলো অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
 
কিন্তু এসব জায়গায় প্রবেশগম্যতা ও অন্তর্ভুক্তিতার অভাবে এলাকাবাসী খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার জিয়াউর রহমান সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিডির পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান এবং বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ, বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক শায়ের গফুর এবং আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।

ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শুধু ঢাকা নয়, বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে মাঠের স্বল্পতা রয়েছে। এতে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবার বাড়ছে। খেলার মাঠ-পার্ক-গণপরিসর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালার পাশাপাশি বিশেষায়িত কর্তৃপক্ষ তৈরি করা আবশ্যক।

 

অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকায় ২৩৫টি খেলার মাঠ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪১টি প্রাতিষ্ঠানিক মাঠ। বিদ্যমান মাঠগুলোতে শিশু-কিশোরদের অবাধ প্রবেশ নেই। ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও একই অবস্থা।

ড. শায়ের গফুর বলেন, খেলার মাঠ রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি। খেলার মাঠ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার পেছনে ক্ষমতার অপব্যবহার দায়ী। খেলার মাঠ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে শিশু-কিশোররা বড় অংশীদার। তাদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 
 
spot_imgspot_img

ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল ভিএফএস

ভিএফএস গ্লোবালের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভিএফএস গ্লোবাল। এবার তারা ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। ভিএফএস তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে...

জেলখানার চিঠি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস  কয়েদি নং: ৯৬৮ /এ  খুলনা জেলা কারাগার  ডেথ রেফারেন্স নং: ১০০/২১ একজন ব্যক্তি যখন অথই সাগরে পড়ে যায়, কোনো কূলকিনারা পায় না, তখন যদি...

কর্মসৃজনের ৫১টি প্রকল্পে নয়ছয় মাগুরায়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে হাজিরা খাতা না...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here