Wednesday, June 19, 2024

অস্তিত্ব সংকটে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তর বাড়ি

১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে কুমিল্লার কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সোচ্চার হন। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, গণপরিষদে কার্যবিবরণী লেখা হয় ইংরেজি ও উর্দু ভাষায়, কিন্তু সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাই অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষাও ব্যবহার করতে হবে।

এ ঘটনার পর ধীরেন্দ্রনাথ পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়ে কয়েকবার কারাবরণও করেন।

 
আগে থেকেই পাকিস্তানিদের টার্গেট ছিলেন তিনি, যার সর্বশেষ পরিণতি দেখা যায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়।

১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকার ধর্মসাগরের পশ্চিম পারের বাড়ি থেকে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এবং তাঁর ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। কুমিল্লা সেনানিবাসে ৮৫ বছর বয়স্ক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে বাবা-ছেলে দুজনকেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

তাঁদের মরদেহেরও সন্ধান পায়নি পরিবার।

রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার অন্যতম ‘ভিত রচনাকারী’ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তর কুমিল্লার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি এখন পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। ২০১০ সালে তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বাড়িটি পরিদর্শনে আসেন। তিনি এখানে ‘ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও প্রায় ১৪ বছরেও এর বাস্তবায়ন হয়নি।

তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, বাড়িটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্তর উত্তরসূরিদের আগ্রহ না থাকায় বাড়িটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো বাড়িটি স্যাঁতসেঁতে। সামনের ভাঙাচোরা টিনশেড ঘরটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার অবস্থা। আর পেছনের ঘরটি ভেঙে পড়েছে। পুরো বাড়িটি নোংরা, আবর্জনায় ভরে গেছে।

বাড়ির সামনে নেই ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তর নামফলকও।

প্রায় ২২ বছর ধরে বাড়িটিতে বাস করে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সুজন মিয়ার পরিবার। সুজন মিয়া মারা গেছেন প্রায় ১২ বছর আগে। এখন তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম সন্তানদের নিয়ে থাকেন, কেয়ারটেকারের মতো।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্তর স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর উত্তরাধিকারীদের অনাগ্রহ রয়েছে। তারা না চাইলে সরকারিভাবে সেখানে কিছুই করা যাচ্ছে না। কারণ ওই বাড়ির সম্পত্তি তাঁদের ব্যক্তিমালিকানাধীন।’

ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তর নাতনি আরমা দত্ত সাবেক সংসদ সদস্য। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাড়িটি সংরক্ষণে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা তাঁর স্মৃতিগুলো রক্ষা করতে চেষ্টা করছি।’

 
 
spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here