Wednesday, July 24, 2024

মোবাইল ফোন আসক্তি রোধে করণীয় পদক্ষেপ

অর্থভুবন ডেস্ক

প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন বিশ্বকে আমূল বদলে দিয়েছে। প্রযুক্তির যুগে সবার হাতেই এখন স্মার্টফোন। প্রয়োজন, অপ্রয়োজন, অবসর, বিনোদন সবই যেন ওই এক স্মার্টফোনকে ঘিরেই। সময়ে, অসময়ে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে মোবাইল ফোনের আসক্তি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে করোনাকালীন অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনাসহ বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল স্মার্টফোন। তাই শিক্ষার্থীদের হাতে এই সময় স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। পরে এই স্মার্টফোন ব্যবহার এক প্রকার নেশার মতো হয়ে যায়। ফলে এখনো তাদের এই আসক্তি থেকে বের করা অনেকাংশেই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।এক সময় বই পড়া ছিল মানুষের অবসর সময় কাটানোর অন্যতম মাধ্যম। আজ বই পড়ার সেই স্থান দখল করেছে স্মার্টফোন। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি চিন্তার বিকাশ ঘটানোর পেছনে বই যে ভূমিকা পালন করত আজ তা স্মার্টফোনের দখলে। এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার চিন্তার বিকাশ সাধনের পেছনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল স্ক্রিনে দেখা ইতিবাচক ভিডিওগুলোর চেয়ে নেতিবাচক ভিডিওগুলো মানুষের মনে বেশি প্রভাব ফেলছে। ফলে সমাজে দেখা দিচ্ছে নানা অপরাধ। বিশেষ করে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের নেতিবাচক ভিডিও দেখার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নানা সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে। নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় ঘটানোর পেছনে স্মার্টফোনের নেতিবাচক ব্যবহার নীরব ভূমিকা পালন করছে।এ ছাড়া আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস সময়কে নষ্ট করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই স্মার্টফোন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার পেছনে যে সময় দেওয়ার কথা ছিল তা এখন মোবাইল চালানোর পেছনে ব্যয় করছে। অনলাইন ভিডিও, টিকটক, লাইকি ও ভিডিও গেমসের প্রতি চরম আসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুলে পড়া শিক্ষার্থীরা। শিশুরাও কম আসক্ত নয়, মোবাইল ফোন এক মুহূর্ত হাতে না থাকলে খাবার পর্যন্ত খায় না শিশুরা। ক্রমাগত মোবাইল ফোনের ব্যবহার মস্তিষ্ক বিকাশে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে পড়াশোনায় মন বসছে না। ক্রমাগত ও বিরতিহীন মোবাইল ফোনের স্ক্রিন স্ক্রল করতে করতে এবং ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারের ফলে অনেকেই তার মূল্যবান দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলছে। চাইলেও প্রযুক্তির এই ভয়াল থাবা থেকে বের হতে পারছে না। এ ছাড়া একাগ্রচিত্তে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে মানুষ এখন আর আগের মতো সরাসরি মিশতে পারছে না পরিচিত, অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে। সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের হারও অনেকটা কমেছে। এক প্রকার অসামাজিক মানুষ তৈরি হচ্ছে দিন দিন। ইঙ্গিত দিচ্ছে অসুস্থ প্রজন্মের।তাই আমাদের উচিত মোবাইল ফোনের এই আসক্তি রোধে করণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যেমন-১. সময় নির্ধারণ : একটি নির্দিষ্ট সময়কে কেন্দ্র করে স্মার্টফোন চালানো উচিত। যেমনÑ দৈনিক এক ঘণ্টা। প্রয়োজন অনুসারে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশগুলো চেক করে আবার অফলাইনে ফিরে যাওয়া। রাত ১০টার পর ফোন না চালানোর অভ্যাস তৈরি করা। এতে রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া সহজ হবে।২. অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়া বা গ্রুপ চ্যাটিং থেকে ক্রমাগত নোটিফিকেশন মানুষকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে তোলে। বারবার মনোযোগ তৈরি করে এসব নোটিফিকেশন চেক করার প্রতি। এতে মোবাইল ফোনের আসক্তি আরও বেড়ে যায়। তাই অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা উচিত।৩. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিলিট করা : মোবাইল ফোন থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিলিট করতে হবে। বিভিন্ন অ্যাপ থাকলে তা ব্যবহার করতেও মন চাবে। যে অ্যাপের প্রতি আপনি আসক্ত হয়ে পড়ছেন তা দ্রুত ডিলিট করুন। এতে মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি কমবে।৪. বই পড়া : সময়কে সঠিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে ব্যবহার করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বই পড়া। বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে। আমাদের চিন্তার বিকাশ ঘটে। সুন্দর সময় কাটানো যায় বই পড়ার মাধ্যমে। জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় বইয়ের পেছনে ব্যয় করলে তা একটা সময় বৃহৎ কিছু উপহার দেয়। যা টাকা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। তাই মোবাইল ফোন আসক্তি কমাতে বই পড়ুন।৫. প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো : প্রকৃতির সান্নিধ্য মানুষের শরীর ও মনকে চাঙ্গা করে তোলে। নতুন নতুন চিন্তাভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে পরিবার/প্রিয়জন/বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে প্রাকৃতিক কোনো পরিবেশে ঘুরতে যেতে পারেন। এতে মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি কমে।৬. দৃঢ়প্রতিজ্ঞা : সবশেষ যেই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো ‘প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করব না’ এ কথাটি নিজের মনে গেঁথে নেওয়া এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করা।এভাবে নিজে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ওপরে বর্ণিত পদক্ষেপগুলো মেনে চললে মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা যায়।তাহমিনা আক্তার : শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 
spot_imgspot_img

ইস্ট আম্বার চাল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক

বর্ষার সময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে আদি চালের বাইরে সাদা সাদা ইস্ট জমে। এটা মূলত প্রাকৃতিক ইস্ট। যা পাউরুটিকে নরম তুলতুলে...

দক্ষ জনশক্তি গড়তে ১১৭ কোটি টাকা দিল কোইকা

নিজস্ব প্রতিবেদক,অর্থভুবন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে ১১৭ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)। গতকাল বুধবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান...

বাকিংহাম প্যালেস : এবার ব্যালকনির পেছনের ঘরটি দেখার সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,অর্থভুবন বিশেষ বিশেষ দিনে বা ঘটনার ক্ষেত্রে বাকিংহাম প্যালেসের ব্যালকনি থেকে দেশবাসীর সামনে দেখা দিয়ে থাকেন রাজা বা রানিসহ ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যরা। সে কারণে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here