অর্থভুবন প্রতিবেদক
রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী চন্দনা হত্যা মামলায় স্বামী সাজু মিয়া ওরফে সাধনকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের রায় পরিবর্তন করে গতকাল এ রায় দেন বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর বেঞ্চ।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহাম্মেদ হিরো, আবু নাসের স্বপন ও মির্জা মোহাম্মদ শোয়েব মুহিত। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নারগিস আক্তার। জাহিদ আহাম্মেদ বলেন, রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ পরিমার্জন করে এ রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত। ডেথ রেফারেন্স ও আসামির জেল আপিল খারিজ করা হয়েছে রায়ে। নারগিস আক্তার বলেন, দাম্পত্য কলহের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে সাজু মিয়ার আকস্মিক আঘাতে চন্দনার মৃত্যু হয়। তাছাড়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে আঘাত করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে; কিন্তু মামলার জব্দতালিকায় সেই কাঁচিরই কোনো অস্তিত্ব নেই। এসব বিষয় বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল চন্দনার সঙ্গে সাজুর বিয়ে হয়; কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় তিন মাসের মাথায় সাজুকে তালাক দেন চন্দনা। পারিবারিকভাবে মীমাংসা হলে ওই বছরের ২৮ অক্টোবর তাদের পুনরায় বিয়ে দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ১৪ মে রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে সাজু কাঁচি দিয়ে চন্দনাকে হত্যা করেন।
এ মামলায় ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাজুর মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী। সেই মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এদিকে আসামিও জেল থেকে আপিল করেন। এই ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি শেষে রায় দিলেন উচ্চ আদালত।