Wednesday, June 19, 2024

পরিবহন ব্যবসায়ীদের মাথায় ঋণের বোঝা

অর্থভুবন প্রতিবেদক 

বর্তমান সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর ডাকা টানা অবরোধে অগ্নিসংযোগ আতঙ্কে রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহন চলছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম। অন্যদিকে যাত্রী সংকটে মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচলও হাতেগোনা। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন ব্যবসায়ীদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। বেশিরভাগ গাড়ি ঋণের মাধ্যমে কেনায় সেই ঋণের কিস্তির টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে তাদের মনে উঁকি দিচ্ছে করোনা মহামারীকালে টানা লোকসানের দুঃসহ স্মৃতি।

 

সাম্প্রতিক সময়ের টানা অবরোধে রাজধানীতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। আর দূরপাল্লায় ৫ শতাংশের মতো বাস চলাচল করছে। বেশিরভাগ বাসই টার্মিনালগুলোতে অলস বসে থাকতে দেখা যায়। আর নগরীতে চলাচল করা বাসেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মতো যাত্রী থাকছে। ফলে এসব গাড়ির তেলের টাকা তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশের পর থেকে টানা হরতাল-অবরোধে লোকসানের মুখে পড়েছে পরিবহন খাত। সড়কে আগের মতো গাড়ি না চলায় মালিকদের আয় অর্ধেকের বেশি কমেছে। এ ছাড়া অবরোধ চলাকালে সারা দেশে ২০০টির বেশি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে, আগুন দেওয়া হয়েছে ১০২টি গাড়িতে। এসব ঘটনায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাস মালিক সমিতি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিকরা আতঙ্কে সময় পার করছেন।

 

পুরান ঢাকার সদরঘাট থেকে আবদুল্লাহপুর রুটে চলা ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের মালিক আশরাফুল ইসলাম  বলেন, ‘যাত্রী সংকটের কারণে আমার অর্ধেকেরও কম গাড়ি সড়কে চলাচল করছে। তাছাড়া পদ্মা সেতু হওয়ার পর সদরঘাট এলাকায় আগের মতো লঞ্চের যাত্রীদের পাওয়া যায় না। এর মধ্যে অবরোধের কারণে নতুন করে আরও বেশি যাত্রী সংকটে পড়েছে আমার বাস। বেশিরভাগ গাড়ি লোনের মাধ্যমে কেনা। এমন অনেক মালিক আছেন যারা কি না এক বা দুটি গাড়ি দিয়ে ব্যবসা করেন। তাদের পরিবার চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

মিরপুর থেকে কুড়িল রুটে চলা নূর-এ-মক্কা পরিবহনের মালিক জামাল উদ্দীন বলেন, ‘অবরোধে পরিবহনের শ্রমিকরা গাড়ি চালাতে চায় না। তাদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে। অন্যদিকে আমরা যারা সাধারণ মালিক আছি তারাও রাস্তায় বাস নামাতে ভয় পাই। কখন গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রতি মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো ঋণের কিস্তি দিতে হয়। কিন্তু রাস্তায় গাড়ি চালাতে যে খরচ সেই খরচই তো গাড়ি থেকে উঠছে না। আয় কীভাবে করব। এখন ঋণের টাকা কীভাবে দেব সেই চিন্তাই আছি।’

একই রকমভাবে আতঙ্কে দিন পার করছেন রাজধানীর সড়কে চলা শতাব্দী পরিবহনের মালিক সুজন মিয়া। তিনি বলেন, ‘বাসের চাকা ঘুরলে আমাদের মতো মালিকের সংসার চলে। বাস না চললে তো আয় বন্ধ হয়ে যায়। এখন শ্রমিকরাই তো ভালোভাবে টাকা পাচ্ছে না। আমাদের কীভাবে টাকা দেবে। কিন্তু ঋণের টাকা না দিলে সেই ঋণ আরও বাড়তে থাকে। সামনে কতদিন এরকম পরিস্থিতি থাকবে সেটিও তো বলা যাচ্ছে না।’

মালিকদের বেশিরভাগ বাসই ঋণের মাধ্যমে কেনা বলে জানান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি বলেন, ‘২৮ তারিখের পর থেকে ১২ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত আমাদের ১০২টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। আর ২০০টি বাস ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয় মালিকদের। সেই সঙ্গে অবরোধে অনেক বাস চলাচল করতে পারছে না যাত্রী সংকটের জন্য। সব মিলিয়ে এরই মধ্যে ২ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছেন বাসমালিকরা। তবে যাদের গাড়ি অবরোধ-হরতালে সড়কে চলাচল করতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে, তাদের সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, হরতাল-অবরোধ যে কর্মসূচিই থাক না কেন, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মালিক সমিতি থেকে ঢাকা ও আন্তঃজেলা রুটে বাস, মিনিবাস চলাচল অব্যাহত রাখার নির্দেশনা থাকবে।

spot_imgspot_img

দেশের উপকূলে সেরা সব সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র তটরেখার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ অপরূপ এক বদ্বীপ। আর এই বদ্বীপের জন্য প্রকৃতির আশীর্বাদ বঙ্গোপসাগর। সাগরের নোনা জলে অনেক কিছু পেয়েছে এদেশের মানুষ।...

‘ফুরমোন পাহাড়’ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে মিশে আছে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ। শহরে...

রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে বলেছে, রাখাইনের সহিসংতা নৃশংসতার দিকে চলে যেতে পারে। নভেম্বরে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here