Friday, June 21, 2024

নিজে কখনো প্লট চাননি দিতে বললেন ছেলেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক,অর্থভুবন

নিজের জন্য তিনি কখনো প্লট চাননি। ছেলের থাকার একটি ব্যবস্থা করতে প্লট চেয়েছেন। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে যে চিঠিটি দিয়েছেন তাতে এমনই বলা হয়েছে।

 

ডেপুটি স্পিকার তার সন্তানের জন্য পাঁচ থেকে দশ কাঠা আয়তনের একটি প্লটের জন্য চিঠি দেওয়ার পর বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটির পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক প্রকল্পে টুকুর ছেলেকে প্লট দেওয়া হবে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

ডেপুটি স্পিকার টুকু তার ছেলের নামে প্লট বরাদ্দ দিতে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে যে চিঠি দেন তাতে বলা হয়, ‘আমি শামসুল হক টুকু পাবনা-১ আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত এমপি। আমার তৃতীয় সন্তান এসএম নাফিস শামস এনার্জি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক। বাংলাদেশে নাফিস শামসের কোনো আবাসিক প্লট, ফ্ল্যাট বা বাসা নেই। সংসদ সদস্যদের উত্তরা বা পূর্বাচলে প্লট দেওয়া হয়ে থাকে। ঢাকায় আমার মালিকানায় কোনো প্লট, ফ্ল্যাট বা বাসা নেই। এমপি হিসেবে আমি কোনো বরাদ্দ নেইনি। তাই আমার সন্তান নাফিস শামসের নামে উত্তরা বা পূর্বাচলে ৫-১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুল হক টুকু বলেন, ‘আমি তো যাওয়ার পথে, পৃথিবীতে আর কদিন আছি! ছেলেরাই তো থাকবে। ছেলে একটি প্লট পেয়েছে। আমি তো টাকা দিয়ে কিনে দিতে পারব না।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আমাকে ১০ কাঠার প্লটের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল। আমার ভালো লাগেনি। আমার ছেলে একজন প্রফেসর, তার থাকার জন্য একটি প্লট আমি চেয়েছি।’

জানা গেছে, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ডেপুটি স্পিকারের ছেলে নাফিস শামসের নামে প্লট বরাদ্দ দিতে গত ১৭ আগস্ট রাজউক চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট নথি গত ৩ অক্টোবর রাজউকের ১৪তম বোর্ডসভায় উপস্থাপন করা হয়। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাজউকের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) ইঞ্জিনিয়ার সামসুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ-১) মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে নাফিস শামসের নামে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ড) রুলস ১৯৬৯-এর ১৩এ (১) সি ধারা অনুযায়ী সরকারের সংরক্ষিত কোটায় পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে পাঁচ কাঠার একটি প্লট দিতে ঐকমত্য হয় এবং খালি থাকা সাপেক্ষে পাঁচ কাঠার প্লট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় রাজউকের পরিচালককে (এস্টেট ও ভূমি) বিষয়টি দেখতে বলা হয়।

রাজউকের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজউক প্লট বরাদ্দ দেয় সংস্থাটির অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস রুলস ১৯৬৯ অনুসারে। এ বিধিমালা অনুযায়ী, রাজউক প্লট বরাদ্দের জন্য গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন আহ্বান করে। পরে আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্যদের প্লট বরাদ্দ দেয়। তবে বিধিমালাটি ১৯৮৬ সালে সংশোধন করে নতুন একটি উপবিধি (১৩এ) যুক্ত করা হয়, যা সংরক্ষিত কোটা নামে পরিচিত। এ কোটায় মন্ত্রী, এমপি, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নামে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে ৫ আগস্ট ১৩এ ধারাটি আবার সংশোধন করে ১৩এ (১এ), (১বি) ও (১সি) যুক্ত করে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়। ১৩এ (১এ) উপধারায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের, ১৩এ (১বি) উপধারায় সংসদ সদস্যদের এবং ১৩এ (১সি) উপধারায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়ার বিধান রাখা হয়। এখন ২০০৯-এর বিধিমালা অনুসারে মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্লট দিচ্ছে রাজউক। 

বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে অবদান, জনসেবা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলে কেউ বিশেষ কোটায় প্লট পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন। তবে সে ক্ষেত্রে প্লট বরাদ্দ পেতে আগ্রহীকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন অনুমোদন পেলে সেটি রাজউকের বোর্ডসভায় উত্থাপন করতে হয় এবং সেখানেই প্লট বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। তবে প্লট বরাদ্দ দেওয়া সংক্রান্ত রাজউকের নথিতে ‘অবদান’ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য থাকে না। সরকারের ইচ্ছায় পছন্দের লোককে এ বিধিমালায় প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। উল্লিখিত ব্যক্তিদের সন্তান বা পোষ্যদের প্লট বরাদ্দের বিষয়ে বিধানে কিছু বলা নেই।

স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বা মন্ত্রী-এমপি অথবা সরকারি কর্মকর্তার সন্তান বা পোষ্য হিসেবে নয় যদি তিনি (নাফিস শামস) নিজ নামেও আবেদন করতেন এবং প্লটের জন্য বিবেচিত হতেন তাহলেও হয়তো সমস্যা হতো না। বিশিষ্ট কারও সন্তান বা পোষ্য হিসেবে কেউ রাজউকের প্লটের জন্য বিবেচ্য নয়।

spot_imgspot_img

ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল ভিএফএস

ভিএফএস গ্লোবালের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভিএফএস গ্লোবাল। এবার তারা ইতালিপ্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। ভিএফএস তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে...

জেলখানার চিঠি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস  কয়েদি নং: ৯৬৮ /এ  খুলনা জেলা কারাগার  ডেথ রেফারেন্স নং: ১০০/২১ একজন ব্যক্তি যখন অথই সাগরে পড়ে যায়, কোনো কূলকিনারা পায় না, তখন যদি...

কর্মসৃজনের ৫১টি প্রকল্পে নয়ছয় মাগুরায়

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে হাজিরা খাতা না...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here